বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
ইউরোপজুড়ে ছড়াতে থাকা তরুণ আন্দোলনের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতে (Germany Gen Z Protest)। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরিতে ফেরানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ-সহ দেশের অন্তত ৩৪টি শহরে রাজপথে নামেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী।
তবে দিনের বেলার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভা সন্ধ্যা গড়াতেই একাধিক শহরে মারাত্মক সহিংসতা, লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আরও পড়ুনঃ হ্যালোউইনের রাতে সুইজারল্যান্ডে তীব্র হিংসা ও অগ্নিসংযোগ; জুরিখ ও বাসেলে পুলিশের ওপর হামলা
১. ‘জেন জি রেগেল্ট’ (Gen Z regelt)-এর ডাক ও মূল দাবি
আন্দোলনের মূল ডাক দিয়েছিল ‘জেন জি রেগেল্ট’ (Gen Z regelt — যার অর্থ “জেন জি দায়িত্ব নিচ্ছে”) নামক একটি ইন্টারনেট-ভিত্তিক তরুণ প্ল্যাটফর্ম।
-
মূল দাবি: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সরকারি বাজেট এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমানো এবং ২০২৬ সালের নতুন সামরিক তালিকাভুক্তি নিয়মের আড়ালে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা (Military Conscription) চালু না করা।
-
মুখপাত্রের বক্তব্য: সংগঠনের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ (Lina Friedrich) স্পষ্ট জানান, “আমরা যুদ্ধ বা জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে এবং শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করতে রাজপথে সমবেত হয়েছি। আমাদের কাছে শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নতিই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।”
২. ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ ও কোলনে রণক্ষেত্র: লুটপাট ও পেট্রোল বোমা হামলা
হ্যালোউইনের উৎসবের রাতের সুযোগ নিয়ে বিক্ষোভের মাঝে চরমপন্থী ও দুষ্কৃতী গোষ্ঠী মিশে গেলে একাধিক শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
-
ফ্রাঙ্কফুর্টে ব্যাপক দোকান ভাঙচুর: জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের মূল বাণিজ্যিক এলাকায় বহুতল দোকানপাটের কাঁচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়।
-
পেট্রোল বোমা ও জলকামান: বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও জরুরি পরিষেবা কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও পেট্রোল বোমা (Molotov Cocktails) নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান, পেপার স্প্রে ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
-
ব্যারিকেডে আগুন: হামবুর্গ, স্টুটগার্ট ও কোলনে রাস্তার ব্যারিকেড ও আবর্জনার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে একাধিক পুলিশকর্মী ও নিরাপত্তা আধিকারিক আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ গলায় ছুরি ধরে হাত-পা চেপে মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ সোনারপুরে! পলাতক অভিযুক্ত
৩. সরকার বনাম চরমপন্থী উসকানির অভিযোগ
জার্মানির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনিক মহলের দাবি, জেন জি-র মূল দাবিগুলিকে ঢাল বানিয়ে উগ্র-বামপন্থী ও কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ভিড়ের মধ্যে ঢুকে সহিংসতা উসকে দিয়েছে। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ফ্রান্সের মতো ফ্রাঙ্কফুর্টে হিংসাত্মক পরিস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, বাংলাদেশ কিংবা ফ্রান্সের আন্দোলনের আদলে তরুণদের ক্ষোভকে ব্যবহার করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার ও নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে কিছু আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গোষ্ঠী।
তবে এই হিংসার ঘটনা থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে জেন জি রেগেল্ট ঘোষণা করেছে, আগামী ২০ নভেম্বর তারা ইউরোপজুড়ে আরও বড় কর্মসূচির পথে হাঁটবে।


