বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল ইজরায়েলের ভবিষ্যৎ। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় স্পষ্ট ইঙ্গিত—ইজরায়েলের ১২০ আসন বিশিষ্ট সংসদ বা কেনেসেটে (Knesset) কোনো শিবিরই একক বা সুনির্দিষ্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘদিনের ইতিহাস বজায় রেখে আবারও ঝুলন্ত সংসদের পথেই হাঁটছে তেল আবিব। তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অঘটন ও চমকপ্রদ ঘটনা হলো দেশটির আরবপন্থী দলগুলির অভূতপূর্ব উত্থান।
আরও পড়ুনঃ ‘জ্ঞানু মাস্ট গো!’ ১ নভেম্বর ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচিকে সমর্থন সিজেপির
সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে দূরে সব পক্ষ, তুরুপের তাস আরব জোট
ইজরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার হলো ৬১টি আসন। কিন্তু সর্বশেষ গণনার চিত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী পক্ষ—কেউই ৫৫টি আসনের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।
-
আসন সংখ্যা ও শক্তির রূপরেখা: বর্তমানে নেতানিয়াহুর জোট প্রায় ৫৩ থেকে ৫৪টি আসনে আটকে রয়েছে, যা সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে অনেকটাই কম। অন্যদিকে বিরোধী সাবেক সেনাধ্যক্ষ গ্যাডি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট কাছাকাছি আসন পেলেও এককভাবে সরকার গড়ার জায়গায় নেই।
-
আরব দলগুলির বড় জয়: ইজরায়েলে বসবাসকারী প্রায় ২০ শতাংশ প্যালেস্তিনীয় নাগরিকের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলি—যেমন জয়েন্ট লিস্ট এবং রাম (Ra’am)—যৌথভাবে ১৭ থেকে ১৯টি আসনে জয়লাভের দিকে এগোচ্ছে। গত নির্বাচনের তুলনায় এই দলগুলি তাদের আসন সংখ্যা কার্যত দ্বিগুণ করে ফেলেছে।
-
‘কিংমেকার’ ভূখণ্ডে নতুন সমীকরণ: ইজরায়েলের রাজনীতিতে চিরকাল কোণঠাসা হয়ে থাকা এই আরব দলগুলিই এখন নতুন সরকার গঠনের আসল নির্ণায়ক বা ‘কিংমেকার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘বিবি’ অর্থাৎ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীরা যদি আরব দলগুলির শর্ত মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে জোট বাঁধে, তবে নেতানিয়াহুর বিদায় কার্যত সুনিশ্চিত।
ভোটচুরির বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহুর
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগেই নিজের সম্ভাব্য পরাজয় কিংবা ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ভোট চুরির কড়া অভিযোগ এনেছেন।
এক্স (X) হ্যান্ডলে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ (Likud) দাবি করে, মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরব দলগুলি ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতি করেছে। বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে ঘুষ প্রদান, ভুয়ো ভোটার, হুমকি ও ব্যালট পেপার জাল করার অকাট্য অভিযোগ এনে আদালতের কাছে ও নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছে লিকুদ পার্টি। যদিও আরব দলগুলির প্রতিনিধিরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন নৈরাজ্য এলাহাবাদ হাইকোর্টে! ভাঙচুর চালালেন আইনজীবীরা; তছনছ বিচারপতির এজলাস
আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ইজরায়েলের এই টানটান রাজনৈতিক নাটক নজর এড়ায়নি বিশ্বনেতাদের। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তাঁর প্রিয় বন্ধু ‘বিবি’ নেতানিয়াহুই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।
বর্তমানে গণনা শেষ হওয়ার মুখে এবং মাত্র কয়েক লক্ষ ভোট গণনা বাকি রয়েছে। ওই ব্যালটগুলির ওপর নির্ভর করছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের পরবর্তী প্রশাসনিক দিশা।


