বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
সৌদি আরবের পর এ বার সরাসরি মিশরের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করল ইয়েমেনের উগ্রপন্থী হাউথি (Houthi) বিদ্রোহীরা। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তিপ্রতিষ্ঠা এবং রিয়াধের সুরক্ষার স্বার্থে সৌদি ভূখণ্ডে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ হিসেবেই দেখছে ইয়েমেনের এই জঙ্গি গোষ্ঠী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য তথা লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বৃহৎ সাইবার হানার কবলে সনি; ২৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
সংঘর্ষের পটভূমি ও মিশরের সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে তীব্র সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ—বাব-আল মান্দেব প্রণালী (Bab-el-Mandeb Strait) এবং ইয়েমেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বর্তমানে হাউথিদের দখলে চলে যাওয়ায় কৌশলগত বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব।
এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে একাধিক মিত্র দেশ:
-
পাকিস্তান ও তুরস্ক: মক্কা চুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং কৌশলগত সম্পর্কের খাতিরে পাকিস্তান ও তুরস্ক আগেই রিয়াধের সুরক্ষায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
-
মিশরের অন্তর্ভুক্তি: এই তালিকায় সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মিশর। উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর অজুহাতে সৌদি আরবে মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সে দেশের সংসদ। দ্রুতই সৌদির রক্ষার্থে কায়রো থেকে সেনা মোতায়েন করা হবে।
হাউথিদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা
মিশরের এই সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি ‘যুদ্ধের প্ররোচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হাউথি নেতৃত্ব। সংগঠনের এক শীর্ষ আধিকারিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে সৌদি আরবের তথাকথিত সুরক্ষায় মিশরের সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আসলে ইয়েমেনের প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের শামিল। এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। হাউথিদের এই ঘোষণার ফলে এবার সৌদি ও পাকিস্তানের পাশাপাশি মিশরের সঙ্গেও তাদের সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলো।
আরও পড়ুনঃ বৃহৎ সাইবার হানার কবলে সনি; ২৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও মুসলিম বিশ্বের সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, মিশর আনুষ্ঠানিকভাবে তথাকথিত ‘ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন’ (IMCTC)-এর সদস্য না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি আঁচ এসে পড়েছে কায়রোর অর্থনীতির ওপর। লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের বাণিজ্যপথে অস্থিরতা মিশরের রাজস্ব আয়ে গভীর প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতেই মিশরের এই সামরিক পদক্ষেপ।
তবে হাউথিদের তরফ থেকে মিশরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।


