Sunday, 25 October, 2026
25 October
Homeআন্তর্জাতিক নিউজParis: উত্তপ্ত প্যারিস; ফ্রান্সের রাজপথ দখল বিক্ষোভকারীদের!

Paris: উত্তপ্ত প্যারিস; ফ্রান্সের রাজপথ দখল বিক্ষোভকারীদের!

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেন মোট ৪ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন:

গত সপ্তাহের তীব্র হিংসা ও লুটপাটের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার ফের ফ্রান্স জুড়ে শুরু হলো ব্যাপক গণবিক্ষোভ। স্কুলগুলির তহবিলে টান, লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশার প্রতিবাদে এদিন ফ্রান্সের রাজপথে নেমে আসেন চার লক্ষেরও বেশি মানুষ। রাজধানী প্যারিস সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে উগ্র বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্যারিসের প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, এই দিনটির সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার জেরে মোট ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এবার পবিত্র মক্কা-মদিনাও বাদ পড়ল না! হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র পড়ল মক্কায়

দেশজুড়ে বিক্ষোভের ছবি ও ৪ লক্ষ মানুষের জমায়েত

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেন মোট ৪ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিসেই জমায়েত হয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী।

গত সপ্তাহের ব্যাপক ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং রাজধানীর কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ প্রশাসন এবার বিক্ষোভের রুট পরিবর্তন করে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে নির্ধারণ করেছিল। তা সত্ত্বেও শেষ গন্তব্য ‘পোর্ত দে ভাঁসেন’ (Porte de Vincennes)-এর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর কিছু উগ্র বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে ইট-পাথর ও নানা বস্তু ছুড়তে শুরু করে। এর পরই পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে এবং পুলিশ বলপ্রয়োগ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে।

প্যারিস ছাড়াও দেশের অন্যান্য শহরেও সংঘর্ষ

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমগুলির খবর অনুযায়ী, কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে:

  • লিওঁ, ক্লেরমঁ-ফেরঁ ও স্ত্রাসবুর্গ: এই শহরগুলিতে বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

  • নিস ও নঁতে: এই দুই শহরে ভিড় হঠাতে জলকামান ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

  • মার্সেই: মিছিলে অংশ নেওয়া বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে এবং সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।

প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবারের এই সার্বিক বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনায় মোট ৬৪ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৪০ জনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ম্যাক্রোঁ সরকারের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও দক্ষিণপন্থীদের আক্রমণ

আসন্ন মে মাসে ফ্রান্সে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের ঠিক আগে এই গণবিক্ষোভ তাঁর প্রশাসন ও নেতৃত্বের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের এই চরম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কট্টর ডানপন্থী দল ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ (National Rally) বর্তমান সরকারকে জননিরাপত্তা ও জনজীবন সুরক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে আক্রমণ শানিয়েছে। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিক্ষোভের তীব্রতা আঁচ করে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ দেশজুড়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছিলেন। তাঁদের সহায়তার জন্য আকাশপথে হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান ও জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  স্পেনের বার্সেলোনায় ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আন্দোলনের নেপথ্য কারণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংকট ও লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি

মূলত গত মাসে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মীসংকট ও পরিকাঠামোর বেহাল দশার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দাবানলের মতো গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির উন্নত পরিবেশ এবং শিক্ষক সংকট মেটানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা পথে নেমেছেন। পাশাপাশি শ্রমিক ও সাধারণ কর্মীরা বেশি মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় প্রায় ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ঘণ্টার পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। বিকল্প শিক্ষক বা পরিপূরক নিয়োগ না হওয়ায় মোট পাঠদানের ৭.৫ শতাংশই সম্পূর্ণ করা যায়নি। এর ওপর জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইনসি’ (INSEE)-র তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে জ্বালানির দাম একলাফে ২১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার জেরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১ শতাংশে। সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট ফরাসি জনগণের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন