Monday, 26 October, 2026
26 October
Homeআন্তর্জাতিক নিউজSerbia: জেন জি ম্যাজিক ইউরোপেও; সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্টের গদি উল্টে দিল ছাত্ররা

Serbia: জেন জি ম্যাজিক ইউরোপেও; সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্টের গদি উল্টে দিল ছাত্ররা

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চগুলিতেও কি তবে এবার প্রথাগত রাজনীতিবিদদের সরিয়ে ছাত্রনেতাদের যুগ শুরু হতে চলেছে?

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবেদন:

উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছাত্রবিক্ষোভের আগুন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের আনাচে-কানাচে। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালির মতো দেশে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপছে পড়ুয়াদের মিছিলে। আর এবার প্রতিবাদের সেই রূপ বদলাল ক্ষমতার পালাবদলে। নির্বাচনী ময়দানে সরাসরি অবতীর্ণ হয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়ে টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচের দেশ সার্বিয়াতে রক্তপাতহীন বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলল দেশের ছাত্রসমাজ। ভোটে শোচনীয়ভাবে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন সার্বিয়ার পোড়খাওয়া প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুজিচ।

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের আগে তেল আভিভে পরিমাণু বিস্ফোরণ! হুমকির মুখে ইজরায়েল

সার্বিয়ায় ছাত্রদের ঐতিহাসিক নির্বাচনী জয়

বলকান রাষ্ট্র সার্বিয়ায় গত দুই বছর ধরে লাগাতার ছাত্রবিক্ষোভ চলছিল। রাজধানী বেলগ্রেডের একটি রেল স্টেশনের ছাদ ভেঙে ১৬ জন সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল দেশের ছাত্রসমাজ। সেই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ কেবল রাজপথের আন্দোলনে আটকে থাকেনি; ছাত্ররা গণতান্ত্রিক উপায়ে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে পা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সার্বিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ময়দানে নামে ছাত্রদের রাজনৈতিক দল— ‘স্টুডেন্টস লিস্ট পার্টি’ (Students List Party)। দেশের ২৫০টি আসনের প্রতিটিতেই তারা তাদের প্রার্থী দেয়। তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুজিচের দল ‘সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি’ (SNS)।

রবিবার প্রকাশিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সার্বিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে:

  • স্টুডেন্টস লিস্ট পার্টি: পার্লামেন্টের ২৫০টি আসনের মধ্যে একাই দখল করেছে অন্তত ১৪০টি আসন।

  • সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ভুজিচের দল): শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়ে ১০৫টি আসনে আটকে গেছে।

পরাজয় স্বীকার ভুজিচের, শুরু নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

টানা ১০ বছর ধরে সার্বিয়ার রাজনীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুজিচ শোচনীয় পরাজয় হাসিমুখে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন, “আমরা যে এই নির্বাচনে হেরেছি, তা জলের মতো পরিষ্কার। নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে দেশের ছাত্ররা।”

ছাত্রদের এই ঐতিহাসিক জয়ে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডসহ গোটা দেশের রাজপথ উল্লাসে ফেটে পড়েছে। কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যের পরই সার্বিয়ার রাজনৈতিক মহলে দানা বেঁধেছে এক মস্ত বড় প্রশ্ন— এবার দেশকে নেতৃত্ব দেবে কে?

ছাত্ররা রাজপথের আন্দোলনে ও ব্যালট বাক্সে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটালেও সরকার গঠনের জন্য সেভাবে কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে সামনের সারিতে আনেনি। ফলে সার্বিয়ার শাসনভার ও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে ন্যস্ত হবে, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইউরোপ থেকে ভারত: বিশ্বজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জোয়ার

সার্বিয়ার এই ছাত্রবিপ্লব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিশ্বজুড়ে তারুণ্যের এই ক্ষোভ এখন সর্বত্র দৃশ্যমান:

  • ফ্রান্স ও ইউরোপ: মুদ্রাস্ফীতি, লাগামছাড়া জ্বালানির দামবৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তাল ফ্রান্স। পাশাপাশি আলবেনিয়া ও ইতালিতেও ছাত্র ও যুবসমাজ আন্দোলনের পথে নেমেছে।

  • ভারত: দেশের মাটিতেও ছাত্র আন্দোলনের পারদ চড়ছে। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং পরবর্তীতে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো ইস্যুতে রাজপথে নেমে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলি (যেমন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন)।

আরও পড়ুনঃ ‘কাপুরুষ’ দীপকেদের কেরিয়ার শেষ; ‘পিস বন্ড মানেই রাজনৈতিক আত্মহত্যা’! দাবি প্রাক্তন বিচারপতির

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চগুলিতেও কি তবে এবার প্রথাগত রাজনীতিবিদদের সরিয়ে ছাত্রনেতাদের যুগ শুরু হতে চলেছে? এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেরই মতে, রাজপথ কাঁপানো বা নির্বাচনে জয়ী হওয়া এক কথা, আর জটিল ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতি সামলে একটি দেশ পরিচালনা করা সম্পূর্ণ আলাদা। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীন ছাত্রনেতাদের হাতে রাতারাতি শাসনভার তুলে দিলে সার্বিয়া বা অন্যান্য দেশে তা হিতে বিপরীত হতে পারে কি না, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়াকিবহাল মহল। তবে জকোভিচের দেশে ছাত্রদের এই অদম্য জয় প্রমাণ করে দিল—তারুণ্যের সম্মিলিত শক্তির সামনে একচ্ছত্র আধিপত্যের দেওয়ালও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন