Monday, 26 October, 2026
26 October
Homeদক্ষিণবঙ্গKali Katha: শ্রীপতিপুরে ৭৩ বছর ধরে পূজিতা দেবী ‘সবুজ কালী’, বাঁশির সুরে...

Kali Katha: শ্রীপতিপুরে ৭৩ বছর ধরে পূজিতা দেবী ‘সবুজ কালী’, বাঁশির সুরে তুষ্ট হন মা! হুগলির হরিপালে আরাধনা বৈষ্ণব ও শাক্তের এক অনন্য মেলবন্ধন

বৈষ্ণব বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও মায়ের প্রিয় নিবেদন হিসেবে প্রস্তুত করা হয় আমিষ ভোগ, যার মধ্যে পদের পুজোয় ‘ইলিশ মাছ’ থাকা বাধ্যতামূলক।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ ধর্মীয় ও রাজ্য প্রতিবেদন:

হুগলি জেলার হরিপাল ব্লকের শ্রীপতিপুর পশ্চিম গ্রামে অধিকারী পরিবারের ‘সিদ্ধেশ্বরী কালী মাতার মন্দিরে’ প্রতি বছর উদযাপিত হয় বঙ্গদেশের এক অন্যতম ব্যতিক্রমী ও বিরল মাতৃপুজো। এখানে দেবী কালী কৃষ্ণবর্ণা বা শ্যামা নন, বরং কচি কলাপাতার মতো উজ্জ্বল সবুজ অঙ্গরাগে রূপায়িত। গত ৭৩ বছর ধরে শ্রীপতিপুরের অধিকারীদের ভিটেয় ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পূজিতা হয়ে আসছেন এই ‘সবুজ কালী’।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলের দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপ, জারি রেড অ্যালার্ট; সাগরে জন্মাল ‘অর্ণব’

প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান বটকৃষ্ণ ও সাধনার ইতিহাস

এই পুজোর সূচনা করেছিলেন ওই গ্রামেরই এক বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান বটকৃষ্ণ অধিকারী। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর কিছুদিন কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে কাটালেও গ্রামে ফিরে এসে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। তবে বৈষয়িক সংসারী জীবনে তাঁর মন ছিল না। শ্রীকৃষ্ণের রাখালরাজা রূপের মতোই বটকৃষ্ণের নিত্যসঙ্গী ছিল একটি গরু এবং তাঁর সাধের আড়বাঁশি। মাঠেঘাটে, প্রান্তর ও শ্মশানে বাঁশি বাজিয়েই দিন কাটাতেন তিনি।

কথিত আছে, তেমনই একদিন মাঠে গরু বাঁধার সময় তাঁর সামনে হঠাৎ আবির্ভূত হন এক শ্বেতবস্ত্র পরিহিত সন্ন্যাসী। তিনি বটকৃষ্ণকে বলেন, “তোমার দীক্ষা হবে!” সেই মহাপুরুষের কাছেই গুরুবিদ্যা লাভ করে গোঁড়া বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান বটকৃষ্ণ অধিকারী হয়ে ওঠেন একনিষ্ঠ শক্তি সাধক। শ্মশানে সাধনা করতে করতে সিদ্ধিলাভ করেন তিনি এবং স্বপ্নে মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠার নির্দেশ পান।

যে পরম বৈষ্ণব পরিবারে কপালে তিলক সেবা আর রাধা-গোবিন্দের নাম না করে কেউ জলস্পর্শ করতেন না, সেখানে শক্তি সাধনার প্রস্তাবে সমাজের তৎকালীন মোড়লরা চরম আপত্তি তুলেছিলেন। তবে মায়ের আদেশ শিরোধার্য করে ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে সমস্ত বৈরী সমাজকে উপেক্ষা করে নিজের বাড়িতে একটি ঘট স্থাপন করেন বটকৃষ্ণ।

স্বপ্নাদেশ ও বৈষ্ণব-শাক্তের অপূর্ব রূপায়নে ‘সবুজ কালী’

ঘট স্থাপনের পর এক অদ্ভুত স্বপ্নাদেশ পান সাধক বটকৃষ্ণ। তিনি স্বপ্নে দেখেন—স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এবং মা কালী এক অঙ্গে বিরাজ করছেন! আর সেই কৃষ্ণ-কালীর যুগল রূপের কারণেই দেবী এখানে শ্যামবর্ণের বদলে কচি কলাপাতার মতো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছেন। দেবীর এক হাতে খড়্গ এবং অন্য হাতে ত্রিশূল।

মায়ের এই নির্দেশ উপলব্ধি করে রটন্তী কালীপুজোর দিনে বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই অনন্য মাতৃমূর্তি। দেবীর শ্রীঅঙ্গের এই বিশেষ সবুজ অঙ্গরাগ তৈরি করা হয় দূর্বাঘাসের ভেতরের কচি সবুজ পাতার রস বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে।

পঞ্চমুণ্ডির আসন, কপালে তিলক ও আড়বাঁশির সুরে পুজো

সবুজ কালীর আরাধনায় শাক্ত ও বৈষ্ণব ভাবধারার এমন অদ্ভুত মিশেল সত্যিই বিরল। মা এখানে পরম বৈষ্ণব, তাই প্রথা মেনে দেবীর কপালে পরানো হয় বৈষ্ণবীয় শ্রীচন্দনের তিলক। অথচ অন্যদিকে, দেবী গুপ্ততন্ত্র মতে পূজিতা হন এবং তাঁর বেদিটি নির্মিত হয়েছে তান্ত্রিকদের অত্যন্ত পবিত্র ‘পঞ্চমুণ্ডির আসনে’।

তবে এই পুজোর সবচেয়ে মূল ও বিস্ময়কর প্রথা হলো ‘বাঁশি বাজানো’। কথিত আছে, বটকৃষ্ণের আড়বাঁশির মধুর সুরেই মুগ্ধ হয়ে দেবী তাঁকে ধরা দিয়েছিলেন। তাই মাকে নিত্যদিন বাঁশি বাজিয়ে শোনানো এখানকার আবশ্যিক অঙ্গ। দীপান্বিতা কালীপুজোর রাতে (দ্বিতীয় প্রহরে) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা দেবীকে বাঁশি বাজিয়ে শোনানো হয়। শ্রীপতিপুরের অধিকারী বংশের উত্তরসূরিরা তিন পুরুষ ধরে এই ধারা বহন করে আসছেন।

আরও পড়ুনঃ  ‘কাপুরুষ’ দীপকেদের কেরিয়ার শেষ; ‘পিস বন্ড মানেই রাজনৈতিক আত্মহত্যা’! দাবি প্রাক্তন বিচারপতির

নিরামিষের সঙ্গে ইলিশ ভোগ ও জুঁই ফুলের অর্ঘ্য

সবুজ কালীর পুজো পদ্ধতির অন্যান্য নিয়মও বেশ চমকপ্রদ। বৈষ্ণব বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও মায়ের প্রিয় নিবেদন হিসেবে প্রস্তুত করা হয় আমিষ ভোগ, যার মধ্যে পদের পুজোয় ‘ইলিশ মাছ’ থাকা বাধ্যতামূলক। সাধারণ কালীপুজোয় রক্তজবার প্রাধান্য থাকলেও, সবুজ কালীর সবচেয়ে প্রিয় হলো ‘জুঁই ফুল’। জুঁইয়ের সুবাসিত মালা ছাড়া এই পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে শক্তি আরাধনা হলেও এখানে কোনো প্রকার পশুবলির প্রথা নেই।

স্থানীদের কাছে হরিপালের এই সবুজ কালী অত্যন্ত জাগ্রত বলে পরিচিত। বিশেষ করে ভূত চতুর্দশীর রাতে শত শত ভক্ত মায়ের মন্দিরে এসে ১৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে মানত করেন। ভক্তদের অগাধ বিশ্বাস—ভূত চতুর্দশীতে প্রদীপ জ্বালিয়ে সবুজ মা কালীর চরণে মনের আকুতি জানালে দেবী কাউকে খালি হাতে ফেরান না।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন