বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন:
দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তারাপীঠের মূল মন্দিরের সংস্কার করা গর্ভগৃহে ফিরে আসছেন আরাধ্যা দেবী মা তারা। আগামী রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পুণ্যলগ্নে সন্ধ্যারতির পর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে দেবীকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মহাশক্তির এই প্রত্যাবর্তনের দিনে মাকে ‘রাজরাজেশ্বরী’ বিশেষ রূপে সাজিয়ে পুজো করা হবে। দেবীর নিজালয়ে ফিরে আসার এই খবর চাউর হতেই তারাপীঠ মন্দির চত্বর ও ভক্তমহলে চরম উৎসাহ ও আনন্দের জোয়ার বইছে।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগান থেকে শিক্ষা, কালীপুজোর ভিড় সামলাতে প্রস্তুত প্রশাসন
গর্ভগৃহ পরিবর্তনের কারণ ও পটভূমি
গত ১৪ সেপ্টেম্বর, কৌশিকী অমাবস্যার মাত্র দু’দিন পর থেকে তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সংস্কার কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে মন্দিরের সামনের একটি শিবমন্দিরে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। গত প্রায় দেড় মাস ধরে সেই শিবমন্দিরেই দেবীর নিত্যপুজো ও দর্শনের ব্যবস্থা চলে আসছিল।
প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা ছিল মহালয়া কিংবা দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর আগেই দেবীকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় এবং কিছু কারিগরি সামগ্রী পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়।
গর্ভগৃহের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের মূল দিকগুলি
মন্দির সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
উঁচু করা বেদি ও প্রবেশপথ: মূল গর্ভগৃহের বেদি প্রায় ৮ ইঞ্চি উঁচু করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরের সদর দরজার উচ্চতাও প্রায় এক ফুট বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বাইরের নাটমন্দির বা দূর থেকেও ভক্তরা আরও স্পষ্টভাবে ও সহজে মা তারার মুখ ও দর্শন লাভ করতে পারবেন।

-
বিশেষ রেলিং সংযোজন: দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নতুন রেলিং বসানোর কাজ চলছে। জানা গেছে, অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের তৈরি বিশেষ রেলিং এসে পৌঁছাতে সামান্য দেরি হওয়ায় কাজ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ শেষের পথে।
আরও পড়ুনঃ মানবজীবন ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য মেলবন্ধন; অষ্টলক্ষ্মীর আরাধনা ও সনাতন ধর্মে দেবীর আট রূপের মাহাত্ম্য
রবিবারের বিশেষ কর্মসূচি ও আচার-অনুষ্ঠান
মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন অর্থাৎ রবিবার তারাপীঠে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আচার পালিত হবে:
-
শুদ্ধিকরণ: শনিবার রাতেই মূল বেদীর শুদ্ধিকরণ ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়েছে।
-
বিরামখানায় অবস্থান: রবিবার সকালে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে প্রথমে ‘বিরামখানা’য় নিয়ে আসা হবে। সেখানে দিনভর পুজো ও ভক্তদের দর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।
-
গর্ভৃহে প্রত্যাবর্তন: রবিবার সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হওয়ার পর বিশেষ আচার ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবী মা তারাকে তাঁর নতুন সংস্কার করা মূল গর্ভগৃহে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “সংস্কারের কাজ প্রায় শেষের পথে এবং শনিবার রাতের মধ্যেই সমস্ত ফিনিশিং ও রেলিং লাগানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে মা তারাকে ‘রাজরাজেশ্বরী’ সাজে সাজানো হবে, যা ভক্তদের জন্য এক অপূর্ব প্রাপ্তি হবে।”
গত দেড় মাস ধরে বিকল্প স্থানে পুজো চলার পর এবার মা তারা নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরে আসায় কোজাগরী পূর্ণিমার পুণ্যতিথিতে তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


