বিশেষ রাজ্য ও সীমান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার সন্ধ্যায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি চুরির চেষ্টা চালায় একদল দুষ্কৃতী। সেই কাজে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর জওয়ানরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর চড়াও হয় তারা। জওয়ানদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে পাথর ছোঁড়া হয় এবং লাঠি-বাঁশ নিয়ে তেড়ে আসার পাশাপাশি বিস্ফোরক ছোঁড়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও জওয়ানদের তীব্র ও তাৎক্ষণিক পাল্টা প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কায় কী হয়েছিল দেখুন..’, মোদী সরকারকে ‘সতর্ক’ করলেন সোনম ওয়াংচুক
সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ও সংলগ্ন চ্যাংড়াবান্ধা এলাকার সীমান্ত দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তার শাখা নদী ‘সানিয়াজান’। এই নদীর ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত। দুই দেশের এই সীমান্তবর্তী নদীপথেই দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালায় বিএসএফ।
শনিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সময় ওই নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি চুরির কাজ চালাচ্ছিল একদল বাংলাদেশি দুষ্কৃতী। বিষয়টি নজরে আসতেই বিএসএফের কর্তব্যরত জওয়ানরা তাদের বাধা দেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দুষ্কৃতীরা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও জওয়ানদের পাল্টা প্রতিরোধ
ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, সন্ধ্যার প্রাক্কালে সানিয়াজান নদী থেকে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা অবৈধভাবে বালি তুলছে। বিএসএফ জওয়ানরা বাধা দিতেই পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। জওয়ানদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু পাথর ছুঁড়তে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। এমনকি লাঠি ও বাঁশ হাতে জওয়ানদের দিকে তেড়ে আসার দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বিএসএফ জওয়ানরা যখন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তখন জওয়ানদের তৎপরতায় পিছু হটতে বাধ্য হয় দুষ্কৃতীরা। অন্ধকার ও সীমান্তের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত ওপারে পালিয়ে যায়। এই সংঘর্ষের সময় দুষ্কৃতীদের তরফে বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু ছোঁড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের হুমকির মুখেও অনমনীয় তেহরান; ‘আজই ইরান আক্রমণ করতে পারি’ জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প
বর্তমান পরিস্থিতি
এই আকস্মিক ঘটনায় মেখলিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়ালেও, বিএসএফের সতর্ক পাহারার জেরে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পর জওয়ানদের তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভারতীয় সীমানায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


