বিশেষ রাজ্য ও আবহাওয়া প্রতিবেদন:
আশ্বিনের বিদায়বেলায় আবারও বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মেঘ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে একটি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ (Very Severe Cyclonic Storm) রূপ নিতে চলেছে। এটি মূলত ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে মুখ করে এগোলেও, এর পরোক্ষ প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ। মঙ্গলবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কতটা দুঃসাহস! অন্ধকারে নদী থেকে বালি চুরি বাংলাদেশিদের! বিএসএফ বাধা দিতেই হামলা
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সময়সূচি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এই ঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে রাজ্যে বৃষ্টির তীব্রতা ধাপে ধাপে বাড়বে:
-
২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার বিকেল থেকে): আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়বে উপকূলের জেলাগুলিতে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
-
২৮ ও ২৯ অক্টোবর (বুধবার ও বৃহস্পতিবার): এই দুই দিনই হবে দুর্যোগের চরম পর্যায়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামসহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে তীব্র দমকা হাওয়া বইতে পারে।
আরও পড়ুনঃ যে প্রতিশ্রুতির বাঁধনে দেবী লক্ষ্মী আজও বন্দি! জগৎ শেঠ ও পদ্মাবতীর সেই অমলিন কোজাগরী কথা
উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য অঞ্চলে সতর্কতা
কেবল দক্ষিণবঙ্গই নয়, দুর্যোগের এই রেশ গিয়ে পৌঁছাবে উত্তরের পাহাড়ি জেলাগুলিতেও। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য সিকিমের গ্যাংটকসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালি রূপের কারণে ওই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে যাঁদের পাহাড়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখেই যাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি আবহাওয়া বার্তা
আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্বাভাসের সূচকগুলিতেও কিছুটা রদবদল আসতে পারে। ফলে সমুদ্র ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের এবং সাধারণ মানুষকে যেকোনো প্রকার গুজব এড়িয়ে সরকারি বুলেটিন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের সতর্কতার দিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।


