বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
হ্যালোউইনের (৩১ অক্টোবর) রাতে এক অশান্ত ও সহিংস পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল সুইজারল্যান্ড। দেশের দুই অন্যতম প্রধান শহর জুরিখ (Zurich) এবং বাসেলে (Basel) কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে ছড়িয়ে পড়ল চরম উত্তেজনা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষ।
ইউরোপে ছড়াতে থাকা তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও তরুণদের ডাকা এই বিক্ষোভে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জুরিখের ঐতিহ্যবাহী রাস্তাঘাট।
আরও পড়ুনঃ ইন্টারনেট ছাড়াই রিচার্জের পথ খুলল জিও! স্বস্তি অ-ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের
জুরিখের ল্যাংস্ট্রাসে (Langstrasse) ও হেলভেটিয়াপ্লাটজ (Helvetiaplatz) রণক্ষেত্র
-
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার কনটেইনার, ই-বাইক, ই-স্কুটার এবং জুইংলিস্ট্রাস এলাকায় রাখা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হেলভেটিয়াপ্লাটজের আশপাশের একাধিক দোকানের কাঁচ ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ট্রাম স্টপ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
-
টিয়ার গ্যাস ও জলকামান: পরিস্থিতির অবনতি হলে জুরিখ সিটি পুলিশ ও ক্যান্টোনাল পুলিশ যৌথভাবে নামার পাশাপাশি জলকামান, পেপার স্প্রে এবং রাবার বুলেট প্রয়োগ করে। রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে।
বাসেল শহরে রাস্তা অবরোধ ও গণপরিবহন স্তব্ধ
একই রাতে বাসেল (Basel) শহরের কেন্দ্রস্থলেও প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারী কোনো আইনি অনুমতি ছাড়াই আকস্মিক প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন।
-
ব্যারিকেডে আগুন: বিক্ষোভকারীরা শহরের মূল রাস্তায় ব্যারিকেড গড়ে তোলে এবং তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
-
পরিবহন স্তব্ধ: হঠাতই রাস্তার ওপর ব্যারিকেড তৈরি ও অগ্নিসংযোগের ফলে শহরের বাসেল ট্রাম ও বাস-সহ একাধিক গণপরিবহন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও কারণ
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, ইউরোপের একাধিক দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চলা ছাত্র ও তরুণ সমাজের আন্দোলনের (Gen Z Protests) ঢেউ সুইজারল্যান্ডেও এসে পৌঁছেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংগঠিত এই বেআইনি মিছিলে হ্যালোউইনের রাতের সুযোগ নিয়ে ব্যাপক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জুরিখ পুলিশ জানিয়েছে।


