জেলা সংবাদ প্রতিনিধি, পূর্ব বর্ধমান:
পঠনপাঠন চলাকালীন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষকের আসনে বসে বক্তব্য রাখছেন এক রাজনৈতিক নেতা, আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা—সমাজমাধ্যমে এমনই একটি ছবি ও ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গণে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বলগোনা বাজারের শুশুনদিঘি এইচপি উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম সুব্রত গোস্বামী, যিনি দলটির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। (তবে ভাইরাল হওয়া এই ছবি ও ভিডিয়োর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করেনি বঙ্গ বার্তা।)
আরও পড়ুনঃ বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের সারসংক্ষেপ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘বিকশিত ভারত ভিশন ২০৪৭’ বিষয়ে পড়ুয়াদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন ওই বিজেপি নেতা।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য ও রাজনৈতিক তরজা |
| মূল অভিযোগ | ক্লাসরুমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে শিক্ষকের আসনে বসে বক্তব্য পেশ ও রাজনৈতিক প্রচার। |
| প্রশ্নচিহ্ন | সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক দলের সভা বা বক্তব্য এবং শিক্ষাঙ্গণের শিষ্টাচার লঙ্ঘন নিয়ে জোরালো প্রশ্ন। |
| নেতার সাফাই | শিক্ষকরাই তাঁকে জোর করে চেয়ারে বসিয়েছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে ছোট করার মানসিকতা ছিল না। |
আরও পড়ুনঃ উৎসবের আগেই সস্তা হতে পারে রান্নার তেল; আমদানি শুল্ক কমাল কেন্দ্র
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তরজা
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:
-
সিপিএম-এর প্রতিক্রিয়া: সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার দায় কে নেবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে।”
-
তৃণমূল কংগ্রেসের কটাক্ষ: জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী কীভাবে ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষকের চেয়ারে বসে ক্লাস নিতে পারেন? এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা।”
-
বিজেপির বক্তব্য: দলীয় স্তরে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত করা হচ্ছে। শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই এই জনমুখী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল এবং কোনো পঠনপাঠন বন্ধ করা হয়নি।



