Sunday, 27 September, 2026
27 September
Homeআন্তর্জাতিক নিউজSpy Satellite: মহাকাশে মার্কিন গুপ্তচর উপগ্রহ ‘ফারাহ ৩’ ধ্বংস; ভবিষ্যৎ মহাকাশ বর্জ্য...

Spy Satellite: মহাকাশে মার্কিন গুপ্তচর উপগ্রহ ‘ফারাহ ৩’ ধ্বংস; ভবিষ্যৎ মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ

মূলত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাডার সঙ্কেত ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ট্র্যাক করাই ছিল এর প্রধান কাজ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিনিধি:

শীতলযুদ্ধের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রেরিত ৩৮ বছরের পুরনো গুপ্তচর উপগ্রহ ‘ইউএসএ ৩২’ (সাঙ্কেতিক নাম: ফারাহ ৩) গত ১৩ সেপ্টেম্বর মহাকাশে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার উঁচুতে লো আর্থ অরবিটে (LEO) ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ফলে উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউএস স্পেস ফোর্স (US Space Force) উপগ্রহটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো স্পষ্ট কারণ নির্দিষ্ট করতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ  দিল্লিতে ‘দোস্তি’ বঙ্গে ‘কুস্তি’; সাফ বার্তা সেলিমের

উপগ্রহটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  • অভিযানের সূচনা: ১৯৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টাইটান ২ রকেটে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোপন এই উপগ্রহটিকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।

  • উদ্দেশ্য: মূলত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাডার সঙ্কেত ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ট্র্যাক করাই ছিল এর প্রধান কাজ।

  • নামকরণ: বিখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ফারাহ ফসেট-এর নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছিল ‘ফারাহ ৩’।

কীভাবে হলো বিস্ফোরণ? জল্পনা ও কারণ

গবেষক ও স্পেসওয়েদার ডট কম (SpaceWeather.com)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভাঙনের পেছনে মূলত ৩টি সম্ভাব্য কারণ অনুমান করা হচ্ছে:

  1. ব্যাটারি বা ফুয়েল ট্যাংক বিস্ফোরণ: প্রায় দীর্ঘ চার দশক ধরে তীব্র ঠাণ্ডা ও গরমের তাাপমাত্রিক পরিবর্তনের কারণে নিষ্ক্রিয় উপগ্রহটির ভেতরে থাকা পুরোনো ব্যাটারি সেল বা জ্বালানি ভর্তি প্রেসারাইজড ট্যাংক ফেটে যেতে পারে।

  2. মহাকাশ বর্জ্য বা ধূমকেতুর সংঘাত: কোনো ক্ষুদ্র উল্কাখণ্ড (Micrometeoroid) বা মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অন্য কোনো আবর্জনার ধাক্কায় এটি ভেঙে পড়ে থাকতে পারে।

  3. প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রাপ্তি: অতিরিক্ত সময় ধরে কক্ষপথে অবস্থানের ফলে উপগ্রহটির বাহ্যিক কাঠামোগত দুর্বলতা।

অন্যান্য উপগ্রহের ক্ষতির আশঙ্কা ও মহাকাশ বর্জ্য ঝুঁকি

ঘটনার পরেই ইউএস স্পেস ট্র্যাকিং সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, এই মুহূর্তেই এটি সক্রিয় অন্যান্য স্যাটেলাইটের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় বিপদ ডেকে আনেনি। তবে বিজ্ঞানীদের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে:

বিষয় পরিস্থিতি ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ
কক্ষপথের ভিড় ৭৭৫ কিমি উচ্চতাটি উপগ্রহ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ (Crowded Shell) এলাকা। ফলে ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষের কণাগুলি ভবিষ্যতে অন্য উপগ্রহে আঘাত হানতে পারে।
কেসলার সিন্ড্রোম (Kessler Syndrome) একটি বস্তু ভেঙে বহু ক্ষুদ্র বর্জ্য তৈরি হলে তা শৃঙ্খল বিক্রিয়ার (Chain Reaction) মতো অন্যান্য স্যাটেলাইটে আঘাত হেনে মহাকাশকে নতুন উপগ্রহ পাঠানোর অযোগ্য করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ‘জ্ঞানেশ তো ভোট চোর’, সিপিএমের নতুন প্যারোডি, নিশানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

মহাকাশ বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা

এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিক স্তরে এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:

  • ৫ বছরের নিয়ম (5-Year Rule): মার্কিন সংস্থা FCC-সহ আন্তর্জাতিক স্পেস এজেন্সির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শেষে কোনো কৃত্রিম উপগ্রহকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নিতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে (আগে এটি ২৫ বছর ছিল)।

  • প্যাসিভেশন (Passivation) প্রযুক্তি: নতুন উপগ্রহগুলোর মেয়াদ শেষ হলে সেগুলির অবশিষ্ট জ্বালানি শেষ করে দেওয়া এবং ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে তা কোনো বিস্ফোরণের কারণ না হয়।

  • কক্ষপথ পরিষ্কার: মহাকাশে জমতে থাকা পুরনো বর্জ্য ধ্বংস ও সরানোর জন্য রোবোটিক মিশন ও লেজার প্রযুক্তির উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন