বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, রিয়াদ:
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রক্তস্নাত হলো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (King Khalid International Airport)। শনিবারের এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও আমেরিকা, বাংলাদেশ, মিশর, প্যালেস্টাইন, জর্ডন, সিরিয়া ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ আবারও হড়পা বান, হুড়মুড়িয়ে নামছে স্রোত; নেপালে আবার বিপর্যয়
ভয়াবহ হামলার বিবরণ ও বিমান পরিষেবা স্তব্ধ
বিমানবন্দর ও আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং সংস্থা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
-
টার্মিনালে আঘাত: অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনাল চত্বরে সরাসরি আছড়ে পড়ে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। যেখানে কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা সুবিধা ছিল না।
-
বিপুল ক্ষয়ক্ষতি: গত বৃহস্পতিবারও এই বিমানবন্দরে হুথি হামলায় ৩টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু শনিবারের এই হামলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নিমেষের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
-
উড়ান স্থগিত: আন্তর্জাতিক বাজারে এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স সহ একাধিক সংস্থা রিয়াদ ও অন্যান্য সৌদি শহরে তাদের সমস্ত বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা সংস্থাও কড়া সতর্কতা জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এই বিধ্বংসী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে:
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সুর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণ বরদাস্তহীন’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, আমেরিকা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তার কথা ভাবছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও হামলায় ১ জন মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানির কথা নিশ্চিত করেছেন।
-
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের নিন্দা: ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “১০ অক্টোবরের এই ভয়াবহ হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। নিরীহ মানুষদের ওপর এই ক্রমাগত আক্রমণ দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
-
সৌদি সামরিক জোট: সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট একে ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধাপরাধ’ বলে তোপ দেগে কড়া সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রসংঘকে উপযুক্ত জবাব দিলো ভারত; বিক্ষোভে রাষ্ট্রসংঘকে ‘নাক না গলানোর’ পরামর্শ
সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক সংকট
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই মাস থেকে হুথিরা পুনরায় আক্রমণ তীব্র করেছে। সানা বিমানবন্দরে সৌদির বিমান হানার বদলা হিসেবেই তারা রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছে। ইয়েমেনের বর্তমান সংকট সামাল দিতে এবং আকাশসীমার প্রতিরক্ষা ঘাটতি মেটাতে ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরের সাহায্য চেয়েছে সৌদি প্রশাসন। অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে ইরান থেকে আসা পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন সেন্টকমের (US CENTCOM) হামলার পর আঞ্চলিক এই সংঘাত দ্বিগুণ রূপ নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশে এই ধারাবাহিক হামলার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সৌদি অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়েছে।


