বিশেষ প্রতিবেদক, কলকাতা:
দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর পুজোর এই আনন্দঘন সময়ে তিলোত্তমাকে এক নতুন ও নান্দনিক রূপ দিতে শহরের রাস্তা ও ফ্লাইওভারগুলিতে পড়ে গেছে রঙের ছোঁয়া। কলকাতার গড়েরিয়াট, চিংড়িঘাটা এবং পার্ক সার্কাস কানেক্টরের মতো ব্যস্ততম উড়ালপুল ও রাস্তাগুলিকে রামধনু রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এই জাঁকজমকপূর্ণ রূপান্তর কোনো সমকামী আবহের প্রতীক নয়, বরং কলকাতার ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চের সামনে তুলে ধরে শহরের সৌন্দর্যবর্ধন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। ২০২৬ সালের শারদোৎসবের প্রাক্কালে এই বর্ণিল সজ্জার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য:
আরও পরুনঃ সুপ্রিম কোর্টের পথে রাহুল, আটকে দিল পুলিশ
১. উৎসবের আমেজ ও ইউনেস্কো স্বীকৃতি
কলকাতার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (UNESCO Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পুজোদর্শনার্থীদের রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাতে এবং গোটা শহরকে একটি জীবন্ত রঙিন ক্যানভাসে পরিণত করতেই রাস্তার পিচ বা উপরিভাগে গোলাপি, কমলা, হলুদ ও নীলের মতো রামধনু রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।
২. প্রথাগত ‘আলপনা’ শিল্পের আধুনিক মেলবন্ধন
শুধু রামধনু রঙই নয়, পার্ক সার্কাস কানেক্টর এবং গড়িয়া মোড়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলিতে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি লোকশিল্প ‘আলপনা’ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাধারণত ঘরোয়া পুজোয় বা উঠোনে যে আলপনা আঁকা হয়, তাকেই শহুরে রাস্তার সঙ্গে যুক্ত করে এক অভিনব নান্দনিক প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য বার্তা
এই আলপনা ও রাস্তার রঙিন নকশা তৈরির নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর সামাজিক মেলবন্ধন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলিতে সনাতনী হিন্দু ও সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের শিল্পীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথভাবে এই শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন, যা কলকাতার চিরন্তন গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকেই জোরালোভাবে তুলে ধরে।
আরও পরুনঃ মোদি সরকারে লুকিয়ে রাহুলের ২০০ চর! বিস্ফোরক দাবি বিরোধী দলনেতার
৪. নেটদুনিয়ায় ‘মারিও কার্ট’ তুলনার ঝড়
কলকাতার এই রামধনু রঙের ফ্লাইওভারগুলির ছবি ও ভিডিয়ো হু হু করে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশ্বখ্যাত ভিডিয়ো গেম ‘মারিও কার্ট’-এর আইকনিক ‘রেনবো রোড’ (Rainbow Road)-এর সঙ্গে এই রাস্তাগুলির হুবহু মিল খুঁজে পেয়েছেন নেটিজেনরা, যা কলকাতাকে আন্তর্জাতিক মহলের চর্চার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
৫. বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সৌন্দর্য বাড়ানোর এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ালেও এর নেপথ্যে কিছু তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিতর্কও দানা বেঁধেছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, রাস্তার নিজস্ব কালো বা স্লেট রঙ চালকদের চোখের পক্ষে স্বস্তিদায়ক হলেও, এই উজ্জ্বল রামধনু রঙ তীব্র রোদ বা রাতের হেডলাইটের আলোয় চালকদের বিভ্রান্ত করতে পারে, যা থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সব মিলিয়ে, স্থায়ী কোনো পরিকাঠামো পরিবর্তন নয়, বরং শারদোৎসবের কটা দিন কলকাতাকে এক টুকরো রঙিন স্বর্গে পরিণত করতে এই রাজকীয় উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।


