বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
১৯৪১ সালের ২২ জুলাই, রাত পৌনে চারটে। ঘুম ভেঙে তৎকালীন সোভিয়েত শাসক জোসেফ স্ট্যালিন জানতে পেরেছিলেন, হিটলারের নাৎসি বাহিনী গত ৪৫ মিনিট ধরে রাশিয়ার আকাশে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে—ইতিহাসে যা কুখ্যাত ‘অপারেশন বারবারোসা’ (Operation Barbarossa) নামে পরিচিত। কিন্তু প্রায় নয় দশক পর কি ইতিহাসের সেই ছায়া আবার ফিরে আসছে? তবে এবার উল্টো সমীকরণে! জার্মান সরকারের নিজস্ব ওয়ারফেয়ার প্রিপারেশন কমিটির এক চাঞ্চল্যকর আশঙ্কা—২০২৮ সালের মধ্যে যে কোনো সময়ে জার্মানির ওপর সরাসরি আক্রমণ চালাতে পারে পুতিনের রাশিয়া! আর এই চরম যুদ্ধের মেঘের মাঝেই জার্মান নিরাপত্তা সংস্থাকে নাড়িয়ে দিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সেদেশের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আগস্ট হ্যানিং।
আরও পড়ুনঃ গোর্খাল্যান্ড হলে কামতাপুরও চাই! রুদ্ধদ্বার বৈঠক পাহাড়ে
হাজার পাতার ‘টপ সিক্রেট’ সামরিক রিপোর্ট
রাশিয়া আক্রমণ করলে জার্মানি সামরিকভাবে তা প্রতিহত করতে কতটা প্রস্তুত, তা মূল্যায়ন করতে জার্মানির ‘ওয়ারফেয়ার প্রিপারেশন কমিটি’ (Warfare Preparation Committee) একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও বিশদ সমীক্ষা চালায়।
-
১,২০০ পাতার গোপনীয় নথি: কমিটি মোট ১,২০০ পাতার একটি ‘টপ সিক্রেট’ রিপোর্ট তৈরি করে।
-
সংসদে আংশিক পেশ: রিপোর্টের অতি-সংবেদনশীলতার কারণে এর মাত্র ১৬৫ পাতা জার্মান সংসদে পেশ করা হয়।
-
বাকি প্রধান ও গোপন অংশটি সাধারণ কোনো রাজনীতিক তো দূরস্ত, হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তার বাইরে আর কারও জানার এক্তিয়ার নেই।
আরও পড়ুনঃ সতর্ক করলেন মার্কিন সাংবাদিক! পরবর্তী লক্ষ্য ভারত; ফ্রান্সে বিক্ষোভের পিছনে ইসলামপন্থী ও বামপন্থী নেটওয়ার্কভারত
সাবেক সুপার স্পাই আগস্ট হ্যানিং গ্রেফতার: চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
জার্মানির এই চরম গোপনীয় সামরিক প্রস্তুতির মাঝেই সেদেশের সুপার ইন্টেলিজেন্সের জালে ধরা পড়েছেন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আগস্ট হ্যানিং (August Hanning)। ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ বছর জার্মানির পুরো গোয়েন্দা ব্যবস্থার শীর্ষে ছিলেন হ্যানিং। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্রভাণ্ডারের দেখভাল, পরবর্তীতে জার্মান চ্যান্সেলরের উপদেষ্টা এবং ন্যাটোর (NATO) পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন এই হাই-প্রোফাইল কর্তা।
তাঁকে গ্রেফতারের নেপথ্যে রয়েছে অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ: ১. নথি হাতানো ও ঘুষ প্রদান: হ্যানিং নাকি জার্মান পুলিশ চিফকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে একাধিক সময় এমন সব অতি-গোপন নথি সংগ্রহ করেছেন, যা পাওয়ার আইনগত অধিকার তাঁর ছিল না। ২. গোপন নথি বিক্রি: দুই হাজারের বেশি সরকারি ও সামরিক গোপন নথি অজ্ঞাতপরিচয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছে তিনি চড়া দামে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। ৩. ১,২০০ পাতার রিপোর্ট হাতানোর চেষ্টা: ওয়ারফেয়ার প্রিপারেশন কমিটির ওই ১,২০০ পাতার বিস্ফোরক রিপোর্টটিও হাতানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন হ্যানিং। তবে তাঁর পরিচিত কারও কাছে সেই নির্দিষ্ট ফাইলের অ্যাকসেস না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত তা পাননি। কিন্তু তাঁর এই চেষ্টার কথা জানতে পেরেই ফাঁদ পেতে সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে গ্রেফতার করে জার্মান পুলিশ।
হিটলার-স্ট্যালিনের পুরনো যুদ্ধের স্মৃতি উসকে ২০২৮-এর মধ্যে রুশ হামলার এই আশঙ্কা এবং নিজের দেশের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধানেরই গোপন নথি পাচারের অভিযোগে আপাতত তোলপাড় সমগ্র ইউরোপীয় রাজনীতি।


