কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ফের একবার অমীমাংসিতই থেকে গেল জলপাইগুড়ি পুরসভার নতুন বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া। নির্ধারিত দিনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতির কারণে থমকে গেল পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণনাশের আশঙ্কার কারণেই তাঁরা এদিনের বৈঠকে অংশ নেননি। অন্যদিকে, বিরোধী বিজেপির পাল্টা দাবি, বোর্ড গড়ার মতো প্রয়োজনীয় আসন বা সংখ্যাশক্তি না থাকাতেই তৃণমূলের এই পিছিয়ে আসার রাজনীতি।
আরও পড়ুনঃ বারে মদ্যপান করে তাণ্ডব! উত্তর কলকাতার যুব মোর্চা নেতা রাহুল গোস্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
‘অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি, পরোক্ষ হুশিয়ারি’: তৃণমূলের বিস্ফোরক অভিযোগ
বোর্ড গঠন স্থগিত রাখা প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শাসকদলের কাউন্সিলররা। এক তৃণমূল কাউন্সিলরের অভিযোগ:
নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন: দলে বহু মহিলা কাউন্সিলর থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিরাপত্তায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক বা পুলিশি বন্দোবস্ত ছিল না।
সন্দেহজনক জমায়েত ও বিজেপি কার্যালয়ের ভূমিকা: পদ্মশিবিরের কার্যালয় থেকেও পুরসভায় উপস্থিত না হওয়ার পরোক্ষ হুমকি আসে। সেই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ডাকা বৈঠকের দিন সকাল থেকেই পুরসভা চত্বরে বহিরাগত ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের জমায়েত তৈরি করে ভয়ের পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।
আরও পড়ুনঃ রাজা বদলায়, চলন বদলায় না! ১৬৭ কোটির মেগা ইভেন্ট করে চলে গেল গুজরাটের এজেন্সি, জানল না কলকাতার বিজ্ঞাপন জগৎ
‘ভয়ের অজুহাতে রাজসন্ন্যাস নিন!’ বিজেপির পাল্টা তোপ
তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিরাপত্তাহীনতার এই সমস্ত দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ অজুহাত বলে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি নেতা সৌজিত সিংহের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া:
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব: জলপাইগুড়ি পুরসভায় বোর্ড গঠনের মতো নূন্যতম সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ম্যাজিক ফিগার নেই তৃণমূলের হাতে। সেই রাজনৈতিক পরাজয় থেকে মুখ বাঁচাতেই ভয়ের নাটক তৈরি করা হচ্ছে।
হাইকোর্টের আইনি ডেডলাইনের পরও শাসক ও বিরোধীর এই তীব্র দড়ি টানাটানির জেরে জলপাইগুড়ি পুরসভার নাগরিক পরিষেবা ফের একবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।


