বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
শুক্রবার ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র। ঠিক তার আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দলটির নেতা-নেত্রীদের আয়োজিত এক যুগ্ম সাংবাদিক সম্মেলনে চরম বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল দেখা দিল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার আগেই বিক্ষুব্ধ জনতার স্লোগান ও প্রতিবাদের মুখে পড়েন নেহা বোরা ও অভিজিৎ দীপক।
আরও পড়ুনঃ রাহুলের আচরণে ‘ক্ষুব্ধ’ সুপ্রিম কোর্ট; কড়া ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের
সাংবাদিক বৈঠকে বিশৃঙ্খলা ও হইচই
এদিন সাংবাদিক বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক মুখেই জনতা ও উপস্থিত একাংশের মধ্যে থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়। নেহা বোরা ও অভিজিৎ দীপকদের উদ্দেশে মাঝখান থেকেই আওয়াজ ওঠে— “বন্ধ করো, দফা হো যাও!” এই আকস্মিক হট্টগোলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেহা বোরা তৎক্ষণাৎ সভাকক্ষ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশ দেন ওই বিশৃঙ্খলাকারীদের বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপক বাকিদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং চিৎকারকারীদের পুরোপুরি ‘ইগনোর’ বা উপেক্ষা করে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
দীপকের বিস্ফোরক অভিযোগ ও ক্ষোভ
বিক্ষোভের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের সামনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলেন অভিজিৎ দীপক। গত ১০-১৫ দিন ধরে দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ও প্রশাসন বলপ্রয়োগ করে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
-
বিরোধী নেতাদের আটকের প্রসঙ্গ: দীপক দাবি করেন, এই ছাত্র বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে যেসব বিরোধী নেতারা যোগ দিয়েছিলেন—যাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও রয়েছেন—তাঁদেরও বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।
-
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা: সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিকে আঙুল তুলে দীপক বলেন, “আর এসব কার জন্য? মাত্র একজন ব্যক্তির জন্য। জ্ঞানেশ কুমার।”
-
পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন: গত ১০ অক্টোবর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর থেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে রেল পরিষেবা ব্যাহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি, দিল্লির মেট্রো পরিষেবা ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দীপক। এমনকি, দিল্লিতে কেন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হলো, তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ পাচারের আগেই ভেস্তে গেল ছক! উদ্ধার গাদাগাদি করে রাখা ৪০টি মহিষ
সাংবাদিকদের হেনস্থার প্রতিবাদ
সাংবাদিক সম্মেলনে আইসা (AISA)-র কর্মী নেহা বোরা সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ও হেনস্থার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। শুক্রবারের নির্ধারিত ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক তরজায় রাজধানীতে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।


