বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
দেশ থেকে মাওবাদী হিংসা ইতিমধ্যেই নির্মূল করা হয়েছে এবং এবার এর শেষ চিহ্নটুকুও সমাজ থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এমনই হুঙ্কার ছাড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে ছত্তিশগড়ের নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন ভার্চুয়াল ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র নকশালবাদ নির্মূল করাই যথেষ্ট নয়। নকশালবাদের জেরে গত পাঁচ দশকের দুর্ভোগের স্মৃতি চট করে মুছে যাওয়ার নয়। কিন্তু এর প্রতিটি চিহ্নও মুছে ফেলতে হবে এবং বস্তারকে ফের একটি সুখী, শান্ত ও প্রাণবন্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরীহ আদিবাসী ও সাধারণ মানুষকে শারীরিক প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু করে দেওয়াকে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি।
পাশাপাশি, ছত্তিশগড় রাজ্য সরকারের ‘নিয়াদ নেল্লানার’ প্রকল্প, ‘বস্তার অলিম্পিক’ এবং ‘বস্তার পাণ্ডুম’-এর মতো উদ্যোগগুলির ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় যে এলাকায় বন্দুকের গুলি আর বোমার আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা যেত না, আজ সেখানে স্বাভাবিক জনজীবন ও আদিবাসী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে।
আরও পড়ুনঃ ‘যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে ভারত’, বেফাঁস মন্তব্য করে চরম বিতর্কে বিজেপির সভাপতি
উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দেশ থেকে মাওবাদ দমনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র। চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদীদের পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানার দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, বর্তমানে মাও নেটওয়ার্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দেশের কোণায় কোণায় মাওবাদীদের প্রভাব তলানিতে এসে ঠেকেছে। এবার সেই মাওবাদের অবশিষ্টাংশ বা চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।


