Sunday, 18 October, 2026
18 October
HomeকলকাতাKolkata: চুড়ান্ত ব্যার্থ প্রশাসন থেকে পুজো কমিটি! তুমুল বিশৃঙ্খলা, সপ্তমীর সন্ধেয় চোরবাগান...

Kolkata: চুড়ান্ত ব্যার্থ প্রশাসন থেকে পুজো কমিটি! তুমুল বিশৃঙ্খলা, সপ্তমীর সন্ধেয় চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়! ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট অনেকে, ১৭ জনের মৃত্যু; কলকাতা শোকের ছায়া

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যার নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতায় মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বড়সড় দুর্ঘটনা। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩ জন মহিলা, ৩ জন পুরুষ ও ১ জন শিশু রয়েছেন। যদিও সরকারিভাবে এখনও মৃত্যুর নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৩৫ থেকে ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মাটির দেওয়াল আর খড়ের চালে প্রতিমার স্নিগ্ধ আলো; পুরুলিয়ার মেঠো পথেই বেঁচে রয়েছে আসল বাংলার প্রাণের পুজো

কীভাবে ঘটল এই বিপত্তি?

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় হঠাৎই ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বহু দর্শনার্থী হুড়মুড়িয়ে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় লাইন ভেঙে শুরু হয় চরম ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি।

এবারের চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির থিম ছিল ‘অরব’ (ইংরেজি তর্জমায় ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’)। পুজো কমিটির মণ্ডপসজ্জায় একটি বিশেষ ৩৬০ ডিগ্রির বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর বা হাঁটার পথ রাখা হয়েছিল, যেখান দিয়ে ঘুরে দর্শনার্থীদের বের হতে হতো। প্রাথমিক অনুমান, সেই বৃত্তাকার করিডোরের প্রচণ্ড ভিড় এবং বৃষ্টির জেরে হুড়োহুড়ির মাঝেই মানুষ পড়ে যান এবং পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেকে আবার কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেও এই বিপত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঘটনার জেরে তৎক্ষণাৎ মণ্ডপের সমস্ত পুজোর আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় এবং বাহিরপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের তৎপরতা ও হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতার সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তক্ষণাৎ হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজে পুরো পরিস্থিতির তদারকি করছেন এবং হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত থেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুজো কমিটির সকলকে অবিলম্বে থানায় তলব করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যথাসময়ে পর্যাপ্ত পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন না।

আরও পড়ুনঃ  শিশুদের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা মৌলিক অধিকার! ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

হেল্পলাইন চালু ও পুজো কমিটির প্রতিক্রিয়া

পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে দূর করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি জরুরি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। নম্বরটি হলো— ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮।

ঘটনা প্রসঙ্গে পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, “কীভাবে এই কাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান ও প্রথম কাজ হলো আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করা।” উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই চোরবাগান পুজোটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ চর্চায় ছিল, কারণ এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো), জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা (পুজো কমিটির চেয়ারম্যান) এবং উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।

মহাসপ্তমীর আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হওয়ায় গোটা শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন