বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পুলিশের পরিকাঠামো এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে পুজো কমিটির সঙ্গে বিজেপির যোগ এবং স্বজনপোষণ নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘আইন ভাঙাটাই অভ্যাস, সম্মান করে না’, আশুতোষ-সৌরভের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দিল্লির আদালত
অভিষেকের তোপ ও পুজো কমিটিতে রাজনৈতিক যোগের অভিযোগ
চোরবাগানকাণ্ডে পুজো কমিটির সঙ্গে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতার সরাসরি যোগ রয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছে তৃণমূল শিবির। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা এবং বিজেপির উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার প্রধান তমোঘ্ন ঘোষ এই পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেবদীপ অধিকারী নামে এক ব্যক্তির নাম টেনে এনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘ভাইপো’ বলে অভিহিত করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেকের প্রশ্ন, “পুজো কমিটির সঙ্গে যদি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সরাসরি যোগ থাকে, তবে কি তাঁকে গ্রেফতার করা হবে?” অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা দাবি করেছেন যে, তাঁর জানামতে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো নাবালক এবং তিনি কাঁথিতেই থাকেন। তৃণমূলের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, চোরবাগানের মতো জনবহুল এলাকায় সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকেই আন্দাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ এবং অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার কারণেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ
চোরবাগান দুর্ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা ও ভিড় সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধীরাও। সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ তুলেছেন যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে পুলিশ সেই সময় ভিআইপিদের সুরক্ষা এবং অন্যান্য কাজে বেশি ব্যস্ত ছিল। পাশাপাশি, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান যে, দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ লালবাজারে বারবার ফোন করেও কোনো দ্রুত সাহায্য বা সাড়া পাননি।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন সঙ্কট বাংলায়; রাজ্যে ‘আকাল’ ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ ঘোষণা ও অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকে আঙুল
ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং প্রতিটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে **২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ** এবং পরিবারের একজনকে **গ্রুপ-ডি পদে সরকারি চাকরি** দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ২০ ও ২১ অক্টোবর নিজে উপস্থিত থেকে মৃতদের পরিবারগুলোর হাতে ওই আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।


