বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
রাজ্যে ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া এবং সেই স্ট্যাম্প পেপার ব্যবহার করে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে সই সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হলো। পর্যাপ্ত পরিমাণে স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে মামলাটিতে। আজ, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নবমীর ভোরে শহরে অগ্নিকাণ্ড! বাঘাযতীন বাজারে আগুন; পুড়ে ছাই বেশ কয়েকটি দোকান
বাজার থেকে স্ট্যাম্প পেপার তুলে নেওয়ার অভিযোগ ও আকাল
মামলাকারীর প্রধান অভিযোগ, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের চরম আকাল দেখা দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা চরম হেনস্থার মুখে পড়ছেন। অভিযোগের সুরে বলা হয়েছে, প্রশাসনের তরফ থেকে অনুমোদিত স্ট্যাম্প পেপার ভেন্ডারদের কাছে অলিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই বাজার থেকে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি স্ট্যাম্প পেপার পরিকল্পিতভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সই সংগ্রহের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
মামলাটিতে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে যে, বাজার থেকে তুলে নেওয়া ওই স্ট্যাম্প পেপারগুলি রাজ্যের বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ও সংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো হলফনামা জমা দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই প্রক্রিয়া চলছে বলে দাবি। মামলাকারীর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক তৃণমূল তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর পক্ষে সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের একাংশ ওই স্ট্যাম্প পেপারে জোরপূর্বক বা প্ররোচনামূলকভাবে সই সংগ্রহ করাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগানে ‘ভুয়ো’ ঘোষণার মূলচক্রী! কোচবিহার থেকে গ্রেফতার যুবক
হাইকোর্টে মামলা ও আইনি পদক্ষেপের আর্জি
পুলিশের এই ধরনের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারী। আদালতের কাছে তাঁর প্রধান আবেদনগুলি হলো:
* রাজ্যে ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের পর্যাপ্ত সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।
* স্ট্যাম্প পেপারে সই সংগ্রহের এই বেআইনি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট কাজ থেকে পুলিশকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।
* ইতিমধ্যেই পুলিশি তৎপরতায় সংগৃহীত হওয়া স্ট্যাম্প পেপারগুলি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
উৎসবের মরশুমের মাঝে এই বেনজির ও গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয় এবং প্রশাসনের তরফ থেকে কী সাফাই পেশ করা হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে এই মামলাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


