বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান দুর্গোৎসব মণ্ডপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আসল কারণ এবং দুর্ঘটনার ঠিক পূর্বমুহূর্তে “মণ্ডপ ভেঙে গেছে” বলে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো ঘোষণার নেপথ্যে কারা যুক্ত ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। সোমবার কলকাতা পুলিশ সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানান, মণ্ডপ চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ জোরকদমে চলছে। একই সঙ্গে চোরবাগানকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ও উসকানিমূলক পুরোনো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহার থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার সঙ্গে সন্দেহভাজন বাংলাদেশ যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ ফ্রান্সের একাধিক শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ; বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
“মণ্ডপ ভেঙে পড়েছে” ভুয়ো অ্যানাউন্সমেন্ট ও পদপিষ্ট পরিস্থিতি
পুলিশ সূত্রের খবর, গত শনিবার দুর্ঘটনার সময় চোরবাগান এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে এবং প্রস্থান পথ দিয়ে দ্রুত বেরোনোর চেষ্টার কারণে দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড় এক জায়গায় জমে গিয়ে বেরোনোর রাস্তা অবরুদ্ধ বা ‘ব্লক’ হয়ে যায়। অতিরিক্ত কমিশনার কুণাল আগরওয়াল জানান, ঠিক সেই চরম বিশৃঙ্খল মুহূর্তে মাইকে মাইকে ঘোষণা করা হতে থাকে— “মণ্ডপের দিকে কেউ আসবেন না। মণ্ডপ ভেঙে গেছে, মণ্ডপের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ!”
এই ধরনের আতঙ্কজনক ঘোষণার ফলেই দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তবে লালবাজারের আধিকারিকরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, মণ্ডপ ভাঙার মতো কোনো বাস্তবিক অঘটন বা পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি তদন্তকারী দল খুঁজে পায়নি। মাইকে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর ঘোষণা কারা এবং কেন করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও লালবাজারের স্লেথদের নজর
চোরবাগান চত্বরে বসানো মোট ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৩টির ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে, বাকি ১৭টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল এই সিসিটিভি ফুটেজগুলি সেকেন্ড ধরে খতিয়ে দেখে বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুনঃ প্যারিস ‘মুসলিম শহর’ হতে চলেছে বিতর্কিত মন্তব্য ট্রাম্পের
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও কোচবিহারে গ্রেফতার: বাংলাদেশ যোগের বিষবাতা?
অন্যদিকে, চোরবাগান দুর্গাপুজোর এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে হাতিয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ও হিংসাত্মক পুরানো ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগে রাজ্য পুলিশ কোচবিহার থেকে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫৩(২) ধারায় ভুয়ো তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপরাধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার কুণাল আগরওয়াল জানান, ধৃত ব্যক্তি একটি পুরানো ঘটনার হিংসাত্মক ভিডিও তুলে ধরে দাবি করছিলেন যে চোরবাগানে চোখের ক্ষতি করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বা বাংলাদেশের দুষ্কৃতী চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল তদন্তে নামছে। উৎসবের আবহে এমন বিভ্রান্তি ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে লালবাজার পুলিশ চরম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।


