Tuesday, 20 October, 2026
20 October
Homeআন্তর্জাতিক নিউজFrance: ফ্রান্সের একাধিক শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ; বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

France: ফ্রান্সের একাধিক শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ; বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় ৪০টি শহরজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে রাজপথে নেমে এসেছেন তিন লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শিক্ষা ক্ষেত্রের ভঙ্গুর পরিকাঠামো, শিক্ষক সংকট এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মতো একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুতে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ফ্রান্স। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে তা চরম হিংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দেশের অন্তত ৪০টি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের আঁচ এবার গিয়ে পৌঁছল প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত লুভর মিউজিয়ামেও। পরিস্থিতি এতটাই অবনতি হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ফ্রান্সের একাধিক শহরে কারফিউ জারির সুপারিশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।

আরও পড়ুনঃ  রেহাই নেই নেতাজি সুভাষচন্দ্রের! ‘নেতাজি’ সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কিত বই তছনছ করে দিল গেরুয়া বাহিনী

লুভর মিউজিয়ামে অবরোধ ও দেশজুড়ে ব্যাপক হিংসা

গত সোমবার বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা প্যারিসের বিখ্যাত লুভর মিউজিয়ামের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্যারিসের একটি উপকণ্ঠে হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটের জেরে এই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা দাবানলের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় ৪০টি শহরজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে রাজপথে নেমে এসেছেন তিন লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ। তবে অভিযোগ উঠছে, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের আড়ালে একদল উগ্র বিক্ষোভকারী বিভিন্ন জায়গায় যথেচ্ছ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটতরাজ চালাচ্ছেন। গত শনিবার জনতার বিক্ষোভে লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যশালী টাউন হলটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  নদিয়ায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা! এবার কৃষ্ণনগরে RSP-এর বইয়ের স্টলে ভাঙচুর

পুলিশের কড়া পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজপথে নামে ফরাসি পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং জলকামান ব্যবহার করা হয়। লাগাতার এই সংঘর্ষের জেরে দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ১ হাজার সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর।

পরিস্থিতির অবনতির দায় নিয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা খারিজ করে দেন। এর আগে রবিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আন্দোলনের নামে যে লাগামহীন হিংসা দেখা গেছে, তার পক্ষে কোনো যুক্তিই খাটে না। ন্যায্য দাবিতে যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, আর যাঁরা ভাঙচুর বা ধ্বংসলীলা চালাচ্ছেন—তাঁদের মধ্যে পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। যাঁরাই দাঙ্গা বা কুকর্ম করছেন, তাঁদের এর মূল্য চোকাতেই হবে।”

ফ্রান্সের এই দীর্ঘস্থায়ী ও সহিংস সংকটের জেরে ইউরোপের এই অন্যতম প্রধান দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন