বিশেষ সংবাদদাতা, হাওড়া:
রাজ্যজুড়ে পুজো মণ্ডপের সামনে বামপন্থী প্রকাশনা ও বইয়ের স্টলে ভাঙচুরের ধারাবাহিক ঘটনায় এবার নাম জড়াল অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লকের। বাদ গেলেন না স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও। হাওড়ার পাঁচলায় ফরওয়ার্ড ব্লকের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বইয়ের স্টলে চড়াও হয়ে নেতাজির জীবন ও আদর্শ সম্পর্কিত বইপত্র তছনছ এবং স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ গেরুয়া হামলা অব্যাহত বামেদের বুক স্টলে, এ বার C/O হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট
নেতাজির বই তছনছ, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গোৎসব উপলক্ষে হাওড়ার পাঁচলা এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সাহিত্য প্রদর্শনী এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি বইয়ের স্টল দিয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। সেখানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনী, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর (আইএনএ) ওপর লেখা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সাজানো ছিল।
অভিযোগ, হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী ও স্থানীয় বিজেপি কর্মী ওই স্টলে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে বাম কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয় এবং স্টলে থাকা নেতাজির ওপর লিখিত সমস্ত বই মাটিতে ফেলে তছনছ করে দেওয়া হয়। কাঠের অবকাঠামো ভেঙে ফেলে পুরো স্টলটিকে গুঁড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। জাতির মহানায়কের ছবি ও বইপত্র এভাবে অপমানিত ও ভাঙচুর হওয়ার ঘটনায় পাঁচলার সাধারণ বাসিন্দা ও ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের ভূমিকা
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব পাঁচলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, মহা সপ্তমী থেকে রাজ্যজুড়ে যে রাজনৈতিক বই বিপণি ভাঙচুরের তাণ্ডব শুরু হয়েছে, পাঁচলার ঘটনা তারই ধারাবাহিক রূপ। ঐতিহাসিক সত্য ও মতাদর্শের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েই একটি শ্রেণির মানুষ এখন বই এবং নেতাজির আত্মত্যাগের ইতিহাসকেও ভয় পাচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে অকুস্থলে পৌঁছায় পাঁচলা থানার পুলিশ। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক দিনে যাদবপুর, চ্যাটার্জিহাট সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামেদের বুকস্টলে হামলার নিন্দা জানিয়ে আগেই সরব হয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু। বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট দাবি করেছিলেন যে “প্রকৃত বিজেপি কর্মী” কখনও বই ভাঙচুর করতে পারে না। কিন্তু নেতাদের সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই যেভাবে হাওড়ার পাঁচলায় খোদ নেতাজির বইয়ের স্টলে তাণ্ডব চালানো হলো, তাতে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম অবক্ষয় নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল।


