বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
সপ্তমী থেকে অষ্টমী—রাজ্যজুড়ে মণ্ডপের সামনে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের যে ধারাবাহিক ঘটনা সামনে এসেছে, তাতে এবার মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট ভাষায় তিনি দাবি করেছেন, পুজো মণ্ডপ চত্বরে সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি কোনো ‘প্রকৃত’ বিজেপি কর্মী যে এমন কাজ করতে পারেন না, সে কথাও জোর দিয়ে বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ গেরুয়া হামলা অব্যাহত বামেদের বুক স্টলে, এ বার C/O হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট
তৎকাল বিজেপি ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব শমীকের গলায়
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমি প্রথম থেকেই বলছি, বুক স্টল ভাঙার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক বিজেপি কর্মী এ কাজ করতে পারেন না। কিছু মানুষ তৎকাল বিজেপি সেজেছেন, তাঁরাই হয়তো এই কাজ করতে পারেন।’’
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজেপি সভাপতি জানান, তিনি নিজে বিরোধী রাজনীতি করতে গিয়ে অতীতে বহু আঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে প্রতিপক্ষের মতাদর্শের বই মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেওয়া বা স্টল ভেঙে দেওয়াকে তিনি বা তাঁর দল কখনোই সমর্থন করে না। তাঁর দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এটি একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। শমীক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দলের কিছু কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়েছে যাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুরে হাত লাগাননি, তবে তাঁদেরও জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন এবং প্রশাসন এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বাৎসরিক শারদীয়া কান্না’ ‘ছু কিত কিত’ সাংসদ কল্যাণের; নেটদুনিয়ায় শুরু জোর চর্চা
বামেদের বই বিক্রির অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সংবিধান সম্মতভাবে প্রত্যেকেরই বইয়ের স্টল করার এবং সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শমীক। তিনি বলেন, যে অধিকার দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই বিজেপি আন্দোলন করেছিল।
এদিকে, এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জেরেই এই ধরনের হামলার সাহস পাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। যাদবপুরে বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে সিপিএমের তরফ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেছেন, কে কী বই বিক্রি করবে, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কারোর নেই।
এর আগে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) পূর্বক্ষেত্র প্রান্তপ্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসুও বামেদের বুকস্টলে হামলার তীব্র নিন্দা করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, আদর্শগত বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু বই বিক্রি করতে বাধা দেওয়া বা স্টল ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


