বিশেষ সংবাদদাতা, হাওড়া:
উৎসবের মরশুমে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পর এ বার হাওড়াতেও বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। সোমবার, মহা অষ্টমীর দিনে হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানার অত্যন্ত কাছাকাছি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোডের ওপর সিপিএমের একটি দীর্ঘদিনের পরিচিত বইয়ের স্টল সম্পূর্ণ তছনছ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বামেদের তরফ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হলেও, শাসকদল বা অভিযুক্ত শিবিরের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ক্রেতা সেজে এসে হামলা ও বইপত্র তছনছ
সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ষাট বছর ধরে দুর্গাপুজোর সময় ওই নির্দিষ্ট স্থানেই প্রতি বছর বইয়ের স্টল দিয়ে আসছে তারা। এ বারেও নিয়মমাফিক হাওড়া পুরসভা ও স্থানীয় থানাকে আগে থেকেই বুকস্টল করার বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সোমবার অষ্টমীর দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
দলীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এদিন প্রথমে ক্রেতার ছদ্মবেশে কয়েকজন ব্যক্তি বইয়ের স্টলে আসেন। এরপর সিপিএম কর্মীদের কাছে তাঁরা প্রশ্ন করতে শুরু করেন যে কেন স্টলে আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রচারমূলক বই রাখা হয়েছে এবং সেই জবাবের জন্য বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করেই অতর্কিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। এমনকি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীদের বইপত্রও রেহাই পায়নি, সব রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে কয়েকজন সিপিএম কর্মী জখম হন। খবর পেয়ে জেলা স্তরের শীর্ষ নেতারা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা চম্পট দেয়। এই ঘটনায় চ্যাটার্জিহাট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে সিপিএম। তবে বিজেপির স্থানীয় কোনো নেতৃত্ব এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি।
আরও পড়ুনঃ ‘মাথা নত করে দিয়েছে’, বুক স্টলে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা স্বপন দাশগুপ্তের
মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসুর প্রতিক্রিয়া
রাজ্যজুড়ে বামেদের বুকস্টলে একের পর এক এই হামলার ঘটনায় ইতিপূর্বেই তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে আদর্শগত ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে বই বিক্রি করতে বাধা দেওয়া বা স্টল ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
একই সুর শোনা গেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) গলাতেও। সংগঠনের পূর্বক্ষেত্র প্রান্তপ্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘‘প্রত্যেকেরই নিজস্ব বুক স্টল করার সাংবিধানিক অধিকার আছে। আজ যারা এই ধরনের বুক স্টল ভাঙচুর করছে, তারা আন্দোলনের আসল লড়াইয়ের ময়দানে কখনোই ছিল না। কেবল ক্ষমতার দম্ভেই তারা এসব করছে।’’ তবে সরকারের মন্ত্রী বা সংঘের শীর্ষ নেতাদের এই ধরনের স্পষ্ট বার্তার পরেও তৃণমূল স্তরে কেন এই হিংসার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ বামেদের বুকস্টলে বুলডোজার! ক্ষতিপূরণ চেয়ে সোজা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ সিপিএম
দমে না গিয়ে প্রতিবাদে অনড় বামেরা
হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দমে না থাকার বার্তা দিয়েছে স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ সোমবারই ঘটনাস্থলে টেবিল পেতে ফের নতুন করে বই সাজিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন দলীয় কর্মীরা।


