বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বামেদের একটি রাজনৈতিক বই বিপণি বা বুকস্টল রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এই ‘বেআইনি ও স্বৈরাচারী’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিআইএম। যাদবপুর সিপিএম এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে মামলা শুনানির আবেদন জানানোর পাশাপাশি ভাঙচুর হওয়া বইয়ের স্টলের জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যেখানে তারা বই পোড়াচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে মানুষ পোড়াবে!
শনিবার রাতের এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের ভূমিকা
গত শনিবার রাতেই চোরবাগান পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে যখন চারদিকে পুলিশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়ই দক্ষিণ কলকাতার এই বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সিপিআইএমের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিস না দিয়ে কিংবা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে এসে তাদের রাজনৈতিক প্রকাশনা ও বইয়ের স্টলটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাম কর্মী ও ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির দাবি, শনিবার প্রথমে পুলিশ বুলডোজার নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে ছাত্র-যুবকদের তীব্র প্রতিরোধ ও মানববন্ধনের মুখে তা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রাতের অন্ধকারে ফের অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে জোরপূর্বক এই ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, নির্দিষ্ট ওই স্থানে বুকস্টলটি তৈরি করার জন্য বাম শিবিরের কাছে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি অনুমতি ছিল না। সেই বেআইনি কাঠামো সরাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
আরও পড়ুনঃ ‘মাথা নত করে দিয়েছে’, বুক স্টলে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা স্বপন দাশগুপ্তের
মাঝরাতে ধুন্ধুমার ও রাজনৈতিক তরজা
বুকস্টল সরানোর এই অস্বাভাবিক ও তড়িঘড়ি তৎপরতাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে যাদবপুর এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মাঝরাতেই ঘটনাস্থলে বিরাট পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, দফায় দফায় পুলিশ এসে আন্দোলনরত কর্মী-সমর্থকদের ওপর চড়াও হয় এবং জোর করে তাঁদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালেও রাজনৈতিক পারদ চড়ে থাকে। এমনকি রবিবার সকালে সেই ভাঙা বুকস্টল চত্বরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও নেতা কুণাল ঘোষের উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের একতরফা এবং বলপ্রয়োগের নীতির বিরুদ্ধে সিপিআইএম এখন উচ্চ আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এই জরুরি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


