Monday, 19 October, 2026
19 October
HomeকলকাতাDurga Puja: যেখানে তারা বই পোড়াচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে মানুষ পোড়াবে!

Durga Puja: যেখানে তারা বই পোড়াচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে মানুষ পোড়াবে!

আজ বাংলার বুকে, কলকাতার বুকে নাৎসি জার্মানির ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি হচ্ছে! আমরা দেখছি! শুনছি! বুঝছি! চুপ করে আছি!

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

চন্দন দাস

১০ই মে, ১৯৩৩! হিটলার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র মাস চারেক হয়েছে! ক্ষমতায় আসার পরেই হিটলারের প্রথম টার্গেট কি ছিল জানেন? বই!
সেদিন একরাতে ২৫ হাজার বই পুড়িয়েছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর ছাত্র সংগঠন! গোটা জার্মানি জুড়ে ২০টা শহরে এই বই পোড়ানোর তাণ্ডব চালিয়েছিল নাৎসী’রা! বার্লিনে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ একজায়গায় জড়ো হয়ে, অগ্নিকুণ্ড তৈরি করে বই পুড়িয়েছিল!


হিটলারের কুখ্যাত প্রচারমন্ত্রী গোয়েবলস সেদিন বার্লিনে বই পোড়ানোর মহোৎসবে দাঁড়িয়ে এক উগ্র ভাষনে বলেছিলেন- “ইহুদি আর বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের লেখা এই বই গুলি আসলে ‘বর্জ্য’! এগুলি পুড়িয়ে ফেলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য! এই বই গুলি পোড়ানোর মধ্যে দিয়েই জার্মানিদের আত্মার শুদ্ধিকরণ সম্ভব!”

আরও পড়ুনঃ  সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও কেন্দ্র করে শোরগোল, পুলিশের ইউনিফর্মধারী অফিসারের ভূমিকা; নারী নিরাপত্তা নিয়ে উগরে উঠছে ক্ষোভ

এই ঘটনার পর বিখ্যাত জার্মান সাহিত্যিক হেনরিখ হাইন তাঁর নাটকের একটা সংলাপে লেখেন– “যেখানে তারা বই পোড়াচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে মানুষ পোড়াবে!” পরবর্তীতে হাইনের এই কথাটি অমরত্ব লাভ করল যখন গোটা পৃথিবী দেখল সত্যি সত্যিই হিটলার নির্মমভাবে লাখ লাখ মানুষকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে হত্যা করছে!

২০২৬! প্রায় ১০০ বছর পরেও ফ্যাসিস্টের প্রধান শত্রু, প্রাইমারি টার্গেট কিন্তু আজও অপরিবর্তিত – বই! মুক্ত চিন্তার বই! যে বই অন্ধ আনুগত্যের শিকল ছিঁড়তে শেখায়! যে বই প্রশ্ন করতে শেখায়!

আরও পড়ুনঃ  ট্রাইয়ের কড়া নির্দেশিকা এয়ারটেলের ৩টি নতুন সাশ্রয়ী ‘ভয়েস-অনলি’ প্ল্যান

যারা ভাবে বই পুড়িয়ে মানুষের চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে, মানুষের মুক্ত চিন্তাকে ধ্বংস করে দেবে– তাঁরা মূর্খ!
সময় সাক্ষী, এই মূর্খের দল আজ ইতিহাসের ধুলোয় মিশে গেছে! ইতিহাসের পাতায় তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে শুধুই ঘেন্না!
আর যে বইগুলি তাঁরা পুড়িয়েছিল তা সেটা বামপন্থীদের লেখা বই’ই হোক বা আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, হেলেন কেলার বা ওয়েলসের লেখা বই– আজও সেই বই গুলি মানবসভ্যতাকে আলোর পথ দেখাচ্ছে!

 

কালের নিয়মে সেদিনের জার্মানি আর আজকের বাংলা ইতিহাসের একই পৃষ্ঠায় দাঁড়িয়ে! কালের নিয়মে সেদিনের বার্লিন আর আজকের কলকাতা ইতিহাসের একই পৃষ্ঠায় দাঁড়িয়ে!
আজ বাংলার বুকে, কলকাতার বুকে নাৎসি জার্মানির ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি হচ্ছে! আমরা দেখছি! শুনছি! বুঝছি! চুপ করে আছি! আর এই চুপ করে থাকাটাই হয়ত আমাদের কোনো এক অজানা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের দিকে তিলে তিলে এগিয়ে দিচ্ছে!

হ্যাঁ এগিয়ে দিচ্ছে, কারন হেনরিখ হাইন তো বলেই গেছেন “যেখানে তারা বই পোড়াচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে মানুষ পোড়াবে!”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন