বিশেষ প্রতিনিধি:
কখনও প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে মন্তব্য, আবার কখনও সংসদে ‘ছু কিত কিত’ প্রসঙ্গ কিংবা যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কাচের বোতল ছুঁড়ে ফেলার ঘটনা—রাজনৈতিক ময়দানে বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায়শই খবরের শিরোনামে থাকেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তবে রাজনীতির কঠোর খোলস ছেড়ে দুর্গাপুজোর উৎসবে বরাবরই তাঁকে সম্পূর্ণ এক অন্য ও আবেগময় রূপে দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না; পুজোমণ্ডপে আবেগের বশে হাউহাউ করে কাঁদতে দেখা গেল এই দুঁদে রাজনীতিবিদকে।
আরও পড়ুনঃ ওয়ারলী আর্টের ছোঁয়ায় সেজে উঠছে উত্তর কলকাতা; ৮৯তম বর্ষে কাশী বোস লেনের অভিনব থিম ‘আদিম’
হাতছাড়া পুরোনো পুজো ও আবাসনের পুজোয় আবেগ
শ্রীরামপুর ৫ ও ৬ পল্লি গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির দুর্গাপুজোর দীর্ঘদিনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বছর শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন আরএমএস মাঠে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই পুজো পরিচালনা করতেন তিনি। বিশেষ করে অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে ওই পুজোয় তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার ছবি প্রতিবারই সামনে আসত।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে আরএমএস মাঠের সেই ঐতিহ্যবাহী পুজোটি বর্তমানে বিজেপির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় এবার সেখানে আর জায়গা হয়নি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাধ্য হয়ে এবার নিজের আবাসনের পুজোতেই অংশ নেন তিনি। শ্রীরামপুরের গঙ্গা দর্শন আবাসনের পুজোমণ্ডপে সন্ধিপুজো চলাকালীন ভক্তি ও আবেগের বশে আবারও কেঁদে ভাসাতে দেখা যায় তাঁকে।
কালীপুজো থেকে দুর্গাপুজো—প্রতিবারই প্রতিমার সঙ্গে অদ্ভুত আত্মিক টান
শুধু দুর্গোৎসবই নয়, বাঁকুড়ার দোলতলার আদি বাড়ির কালীপুজোতেও প্রতিবছর সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এই সাংসদ। নিজে হাতে পুজোর সমস্ত সরঞ্জাম জোগাড় করা, ঘটা করে আরতি করা কিংবা সয়ং কালীপুজো সম্পন্ন করার মতো কাজে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তবে প্রতিবারই পুজোর শেষলগ্নে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া তাঁর দীর্ঘদিনের স্বভাব। দেবী প্রতিমাকে সজোরে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। কান্নাভেজা গলায় ‘ভবতারিণী মা, জয় তারা’ ধ্বনি দেওয়ার সেই দৃশ্য প্রতিবারই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, আর তাঁর এই কান্নার ভিডিও ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।


