বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
কলকাতার দুর্গাপুজোয় প্রতিবারই নতুন ভাবনার আবহ ও অভিনব থিমের চমক নিয়ে হাজির হয় উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন পুজো কমিটি। সেই ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য পুজো গুলির তালিকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কাশী বোস লেন দুর্গোৎসব কমিটি। এবছর তাদের ৮৯তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এই মণ্ডপ সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক থিমে সেজে উঠছে, যার পোশাকি নাম রাখা হয়েছে ‘আদিম’।
প্রকৃতির কোলে মানুষের সরল জীবনযাত্রা এবং প্রাচীন লোকশিল্পকে তুলে ধরাই এই বছরের মূল ভাবনা। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অত্যন্ত প্রাচীন শিল্পরীতি ‘ওয়ারলী আর্ট’ (Warli Art)-এর আদলে রূপায়ণ করা হয়েছে এই মণ্ডপটি। সাধারণত ঘরোয়া বিছানার চাদর, টেবল ম্যাট কিংবা জামাকাপড়ের নকশায় যে আদিম লোকশিল্পের দেখা মেলে, তাকেই এবার ত্রিমাত্রিক ও জীবন্ত রূপ দেওয়া হয়েছে মণ্ডপচত্বরে। প্রাকৃতির বিভিন্ন উপাদান ও মানুষের নিবিড় যোগ এবং সরল জ্যামিতিক নকশার মাধ্যমে এই শিল্পের মূল দর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন পুজো কমিটির সদস্য অদ্রিতা রুদ্র ও শিল্পী অনির্বাণ প্যান্ডেলওয়ালা।
আরও পড়ুনঃ যেখানে তারা বই পোড়াচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে মানুষ পোড়াবে!
আবহসঙ্গীত ও আলোর জাদুকরি পরিবেশ
এই থিমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ থিম সং ও আবহসঙ্গীত। লোকগীতির মাটির সুর ও ছন্দে তৈরি সেই গানে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি ও মানুষের নিত্যদিনের সখ্য— ‘‘নদী আমার বন্ধু, গাছ আমার বন্ধু, মাটির দেওয়ালে চালের গুঁড়োয় আঁকি জীবনকথা…’’। মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় আধুনিক ও জমকালো আলোর বদলে প্রদীপের স্নিগ্ধ আলো ব্যবহার করা হয়েছে, যা সন্ধ্যার সময় এক শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করবে।
আরও পড়ুনঃ এখানেও ভাইপো সংস্কৃতি! চোরবাগানে মৃত্যুমিছিলের দায় কার? উৎসবের ভিড়ে প্রাণ হারানোর জবাব চায় বাংলা
ঐতিহ্য ও নিয়মের মেলবন্ধন
কাশী বোস লেনের পুজোর এক দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস ও বিশেষত্ব রয়েছে। স্বাধীনতার আগের সময়কার স্মৃতি ও প্রাচীন নিয়ম মেনেই আজও এখানে ১২ জন পণ্ডিতের মন্ত্রোচ্চারণে ও সুনির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠানে ষষ্ঠীর দিন থেকে পুজো শুরু হয়। তৎকালীন নানা রীতিনীতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজও এই পুজো তার সাবেকিয়ানা বজায় রেখে চলেছে। উদ্যোক্তাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাশা, এই বছর সাবেকিয়ানা ও আদিম লোকশিল্পের এক অপূর্ব মিলন দর্শনার্থীদের মন জয় করবে এবং তাঁদের মনে এক শান্তির স্পর্শ বুলিয়ে দেবে।


