বিশেষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্যারিসসহ দেশের একাধিক শহরে বড়োসর দাঙ্গা ও তাণ্ডবের পর বাধ্য হয়ে প্রশাসন রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করেছে। হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে দাঙ্গা দমন পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে ফরাসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই তীব্র অস্থিরতার জন্য ফ্রান্সের অভিবাসন নীতি এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ব্যর্থতাকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ফ্রান্সের একাধিক শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ; বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
অভিবাসন নীতি ও ম্যাক্রোঁকে কাঠগড়ায় তুললেন ট্রাম্প
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, বহু আগে থেকেই তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সীমান্ত বন্ধ করার এবং কড়া নজরদারি চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কানে তোলেননি ম্যাক্রোঁ। ট্রাম্পের দাবি, শিক্ষাগত পরিকাঠামো বা জীবনযাত্রার চড়া খরচ কেবল ওপর-ওপরের কারণ, আসল সমস্যা হলো অনিয়ন্ত্রিত মুসলিম অভিবাসন। তাঁর মতে, অভিবাসীদের একটা বড় অংশ যথাযথভাবে মিশে না গিয়ে সমাজবিরুদ্ধ কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলস্বরূপ ফ্রান্সের প্রধান শহরগুলো আজ অগ্নিগর্ভ। প্যারিস অচিরেই চরম সংকটের মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ প্যারিস ‘মুসলিম শহর’ হতে চলেছে বিতর্কিত মন্তব্য ট্রাম্পের
ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও প্রশাসনের অসহায়তা
রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির অন্তত ৪০টি শহরে বিক্ষোভের নামে ব্যাপক তাণ্ডব চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, সরকারি ভবন, পুলিশের গাড়ি এমনকি জরুরি পরিষেবার যানবাহনেও নির্বিচারে আগুন লাগানো হচ্ছে। বহু জায়গায় উন্মত্ত জনতাকে হটাতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে বলে খোদ ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্বীকার করে নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী নামানোর জল্পনাও তীব্র হয়েছে।
দেশজুড়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে সহস্রাধিক নিরাপত্তা কর্মী আহত হওয়া সত্ত্বেও কার্ফু জারি করা এলাকাগুলিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু স্থানীয় স্তরে কঠোর কার্ফু জারির পক্ষে সওয়াল করেছেন। সব মিলিয়ে, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।


