Wednesday, 21 October, 2026
21 October
HomeদেশCJP: এবার কি হবে? জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে একই...

CJP: এবার কি হবে? জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে একই মঞ্চে নির্মলা সীতারমনের স্বামী!

এই আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হিসেবে ঠিক করা হয়েছে— ‘হর হাত মে তিরঙ্গা, হর গলি মে যন্তর মন্তর’।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিবেদন:

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’-প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় এবার সরাসরি পথে নামতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের স্বামী তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকর। আগামী ২৩ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদী বিক্ষোভে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সহ একাধিক ইস্যুতে ‘পিপল এগেনস্ট SIR’ নামক একটি জোট এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এসবিআই-এ ভয়াবহ সাইবার হানা! ডার্ক ওয়েবে ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ও প্রতিবাদী মঞ্চ

আসন্ন এই বিক্ষোভে পরাকলা প্রভাকরের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিশিষ্ট অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের সভাপতি নেহা বোরা, কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত, প্রখ্যাত লেখক তুষার গান্ধী এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি ঐশী ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বদেরও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।

‘পিপল এগেনস্ট SIR’ জোটের গঠন ও দেশব্যাপী প্রতিবাদ

গত ১৪ অক্টোবর একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয় ‘পিপল এগেনস্ট SIR’ জোট। দেশের ছাত্র, যুব, কৃষক, শ্রমিক, মহিলা, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, বিশেষভাবে সক্ষম এবং রূপান্তরকামীদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন এই জোটে শামিল হয়েছে।

আয়োজকদের মূল দাবি, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী ২৩ অক্টোবর দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হিসেবে ঠিক করা হয়েছে— ‘হর হাত মে তিরঙ্গা, হর গলি মে যন্তর মন্তর’। অর্থাৎ, প্রতিটি নাগরিকের হাতে তেরঙ্গা পতাকা তুলে দিয়ে দেশের প্রতি কোণায় প্রতিবাদের মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি, এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য ‘INDIA’ জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও আবেদন জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি

* মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণ করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা।

* বিতর্কিত ‘SIR’-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা।

* ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে যাওয়া সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম অবিলম্বে পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।

আরও পড়ুনঃ  দশমীর সকালে বাবুঘাট পরিদর্শন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কড়া নিরাপত্তায় চলছে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি

SIR-কে ‘নাগরিকত্বের রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ বললেন প্রভাকর

এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র সমালোচনা মুখর হয়েছেন পরাকলা প্রভাকর। তাঁর দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য, এই সংশোধনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই পদক্ষেপকে তিনি ‘নাগরিকত্বের রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ বলেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

প্রভাকরের জোরালো অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ফলে দেশে কার্যত দুই শ্রেণির মানুষের জন্ম হচ্ছে— একদল যাঁদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রয়েছে, আর অন্যদল যাঁরা সেই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেও তাঁর নাগরিকত্ব রাতারাতি শেষ হয়ে যায় না, কিন্তু ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফলে তিনি নাগরিকত্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এই প্রক্রিয়া ভারতের বহুত্ববাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোয় গভীর নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, যার সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সম্মিলিত ও সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমেই একমাত্র ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

রাজনৈতিক মহলের নজর

আগামী ২৩ অক্টোবরের এই বিক্ষোভে পরাকলা প্রভাকরের মতো অর্থনীতিবিদের যোগদান যে সামগ্রিক SIR-বিরোধী আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা ও গতি দিতে পারে, সে বিষয়ে একমত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ওপর এই দেশব্যাপী প্রতিবাদের প্রভাব কতটা কার্যকর হয়।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন