বিশেষ প্রতিবেদন:
পুজো তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, ঠিক তার মাঝেই বুধবার দশমীর সন্ধ্যায় নিউ টাউনের একটি পরিচিত ঝুলন্ত রেস্তোরাঁয় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত রাস্তার উপরে অবস্থিত ওই রেস্তোরাঁটিতে এই দুর্ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ ইন্দোনেশিয়ার বাংদুংয়ে চরম তাণ্ডব; বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশের গাড়িতে দাউদাউ করে জ্বলল আগুন
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
বুধবার সন্ধ্যায় যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে, সেই সময় ওই ঝুলন্ত রেস্তোরাঁর ভেতরে প্রায় ৫০ জন গ্রাহক বসে খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎই সেখানে আগুন লেগে যাওয়ায় হুড়োহুড়ি ও চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ওই ঝুলন্ত রেস্তোরাঁ থেকে নিচে নামার জন্য লিফট ও সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকলেও, অত উঁচুতে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিচে নামবেন— তা ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানে উপস্থিত সকলে। তবে শেষ পর্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করে প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ সুরক্ষার সঙ্গে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক অনুমান ও দমকলের তৎপরতা
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, দমকলের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী রান্নাঘর থেকেই এই আগুন ছড়িয়ে থাকতে পারে কিংবা শর্ট সার্কিটের কারণেও এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দমকলকর্মীরা ল্যাডার বা মই ব্যবহার করে প্রায় ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দমকলের এই দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে একটি বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মা গঙ্গা কোথায় গেলেন! শুকিয়ে গিয়েছে হরিদ্বারে হর কি পৌরি ঘাটে গঙ্গার জল
প্রশাসনের ভূমিকা ও যান চলাচল
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের ফুলকি সরাসরি নিচে রাস্তার উপর এসে পড়ছিল। নিরাপত্তার খাতিরে সঙ্গে সঙ্গেই ওই রেস্তোরাঁর নিচের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিধাননগর কমিশনারেটের কমিশনার অমিত কুমার ভরত। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর তিনি জানান যে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ওই চত্বরে যান চলাচলও পুনরায় চালু করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।


