বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন:
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মাঝেই আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সংঘাতের উত্তাপের মধ্যেই এবার সরাসরি ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ হামলা চালালে ভয়াবহ বদলা নেওয়ার পরিকল্পনা ছকে ফেলেছে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে (Persian Gulf) সমুদ্রের তলদেশে থাকা আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলগুলিকে নিশানা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন সে দেশের নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
আরও পড়ুনঃ কেনিয়াতে নির্মিয়মান ১৮ তলা বিল্ডিং নিমেষে মিশে গেলো মাটিতে, মৃত্যু ৭ জনের
‘এপিক ফিউরি’-র পুনরাবৃত্তির হুঙ্কার ট্রাম্পের
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এক বড়সড় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্পের গলায় আবার সেই অভিযানের সুর শোনা যায়। হুঙ্কার ছেড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা হয়তো আরও একটা ছোটখাটো ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারি।”
এর পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকা চাইলে খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা রাখে। তবে এখনই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে যুদ্ধ শেষ করা উচিত নাকি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত করা দরকার, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে ট্রাম্প আশ্বস্ত করে জানান, সেখান দিয়ে নিয়মিত তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসন যা চাইছে, সেই পথেই পরিস্থিতি পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী মাসে আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections)। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে নির্বাচনের আগে বড় কোনো হামলা চালানো হবে না। এমনকি দুই দেশের মধ্যে গোপনে যুদ্ধবিরতি বা সামরিক সংঘাত কমানো নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে ফ্লোরিডার এই বক্তব্য সেই সম্ভাবনাকে আবার ধোঁয়াশার মধ্যে ঠেলে দিল।
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট বিকল করার ছক তেহরানের
মার্কিন হুমকির পাল্টা কৌশল হিসেবে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের পথ বেছে নিতে চলেছে তেহরান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মার্কিন-ইজরায়েলি জোট নতুন করে আক্রমণ শুরু করলেই উপসাগরীয় অঞ্চলের গভীর সমুদ্রে থাকা যোগাযোগের কেবলগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
আধিকারিকদের মধ্যে একজন স্পষ্ট জানান, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট কেবলগুলি কেটে দেওয়া হতে পারে। কেবল তা-ই নয়, দুর্ঘটনা ঘটার পর ওই কেবলগুলি যাতে দ্রুত মেরামত না করা যায়, সেই প্রক্রিয়ায়ও বাধা সৃষ্টি করবে তেহরান।
সাবমেরিন কেবলগুলি বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড। ফলে ইরানের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়ে আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স এবং সার্বিক ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উৎসব মরসুমে অনলাইনে বিপুল চাহিদা বাড়ল কন্ডোমের; লোকলজ্জার বাধা কাটালো ১০ মিনিটের ডেলিভারি
বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ
ইতোমধ্যেই চলমান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়চড়িয়ে বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং গৃহহীন হয়েছেন লক্ষ লক্ষ নাগরিক। এমন এক চরম পরিস্থিতিতে নতুন করে এই যুদ্ধ ও ইন্টারনেট বিপর্যয়ের মেঘ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


