বিশেষ রাজ্য প্রতিবেদন:
দুর্গাপুজো মিটতে না মিটতেই আগামী কালীপুজো ও দীপাবলির ভিড় সামাল দিতে এখন থেকেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বিশেষ করে গত দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। আর সেই কারণেই নৈহাটির বিখ্যাত ‘বড়মা’ মন্দিরের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সরাসরি মন্দির চত্বরে পরিদর্শনে গেলেন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং।
বড়মা মন্দিরে জনস্রোত ও প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ
প্রতি বছরই কালীপুজো ও দীপাবলির লগ্ন ঘিরে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। মনস্কামনা পূরণের আশায় সুদূর প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন এবং গঙ্গার ঘাট থেকে মন্দির পর্যন্ত সশরীরে ‘দণ্ডি’ কেটে পুজো দেন। এই বিপুল পরিমাণ জনস্রোত ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা প্রতিবারই পুলিশ প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
চোরবাগানের সেই অপ্রীতিকর ঘটনার পর যাতে নৈহাটিতে কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য এবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগেই সুরক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দিল প্রশাসন।
সিপি-র সরেজমিন পরিদর্শন ও রুট ম্যাপ পর্যালোচনা
এদিন বড়মা মন্দির ফাঁড়ি ও নৈহাটি থানার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত গোটা অরবিন্দ রোড পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং। পরিদর্শনকালে যে বিষয়গুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়:
-
প্রবেশ ও প্রস্থান পথ: দর্শনার্থীরা কীভাবে মন্দিরে প্রবেশ করবেন এবং পুজো দিয়ে কোন পথে বাইরে বেরোবেন, তার সুনির্দিষ্ট রুট ম্যাপ তৈরি করা।
-
দণ্ডি কাটার পথ: গঙ্গার ঘাট থেকে বড়মা মন্দির পর্যন্ত যে পুণ্যার্থীরা দণ্ডি দেবেন, তাঁদের চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ অবমুক্ত ও নিরাপদ রাখা।
-
যানবাহন ও সাধারণ যাতায়াত: উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ।
আরও পড়ুনঃ যাত্রী সুরক্ষায় উঠছে বড় প্রশ্ন! শিয়ালদহ স্টেশনে বড়সড় নিরাপত্তা ত্রুটি
প্রশাসনের কড়া বার্তা
পরিদর্শন শেষে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং গণমাধ্যমকে জানান, “বড়মার পুজোয় প্রতি বছর প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। এই বিশাল ভিড় সুষ্ঠুভাবে সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় যাতে কোনো খামতি না থাকে, তাই আগেভাগেই এই পরিদর্শন করা হলো।”
উৎসবের দিনগুলিতে কোথায় ঠিক কত পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবে, সিসিটিভি নজরদারি কেমন হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সে বিষয়ে মন্দির কমিটির সদস্যাদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই আগাম তৎপরতা ও কড়া নিরাপত্তার চাদরে সাধারণ পুণ্যার্থীরা এবার নির্বিঘ্নে বড়মার দর্শন ও পুজো দিতে পারবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।


