Saturday, 24 October, 2026
24 October
HomeকলকাতাSealdah Division: যাত্রী সুরক্ষায় উঠছে বড় প্রশ্ন! শিয়ালদহ স্টেশনে বড়সড় নিরাপত্তা ত্রুটি

Sealdah Division: যাত্রী সুরক্ষায় উঠছে বড় প্রশ্ন! শিয়ালদহ স্টেশনে বড়সড় নিরাপত্তা ত্রুটি

এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিবেদন:

কলকাতার ব্যস্ততম রেলওয়ে টার্মিনাসগুলির অন্যতম শিয়ালদহ স্টেশনে রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। সম্প্রতি এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে বিবেচিত লোকো পাইলটের কেবিনের খোলা থাকার সুযোগ নিয়ে সোজা চালকের আসনে গিয়ে চড়ে বসেন এবং বিভিন্ন সুইচ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে শুরু করেন (যদিও এই ভিডিও -র সত্যতা যাচাই করেনি বঙ্গ বার্তা)। সামান্য অসতর্কতা বা একটু দেরিতে নজর পড়লে সেখানে এক ভয়ংকর ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই নিত্যযাত্রীমহল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ইরান যদি সমুদ্রের নিচে ইন্টারনেটের অপটিক্যাল ফাইবার কেটে দেয় তাহলে ভারতে কি প্রভাব পরবে? ভরত সরকার বিকল্প কিছু চিন্তা করছে?

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?

রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শিয়ালদহ স্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের ইঞ্জিন বা লোকো পাইলটের কেবিনের দরজা কোনো কারণে খোলা ছিল। সেই সুযোগেই প্ল্যাটফর্মে ঘুরে বেড়ানো এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সোজা কেবিনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি চালকের আসনের সামনে থাকা বিভিন্ন কন্ট্রোল সুইচ এবং বোতাম নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেন। ওই সময় ট্রেনে বা তার আশেপাশে রেলের কোনো কর্মী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টি নজরে আসতেই রেলের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওই ব্যক্তিকে কেবিন থেকে নামিয়ে আনেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে।

যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ

শিয়ালদহ স্টেশনে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। দূরপাল্লার ট্রেন থেকে শুরু করে অসংখ্য লোকাল ট্রেন চলাচল করে এই স্টেশন থেকে। এমন একটি জনবহুল ও স্পর্শকাতর রেলওয়ে টার্মিনালে ট্রেনের ইঞ্জিন বা লোকো পাইলটের মতো অতি সংবেদনশীল এলাকায় বাইরের কোনো ব্যক্তি, বিশেষ করে একজন ভারসাম্যহীন মানুষ কীভাবে অনায়াসে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়ে রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা।

নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মে রেলকর্মী ও রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-এর নজরদারির অভাবের কারণেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলেই ওই সুইচগুলির আকস্মিক নাড়াচাড়ায় ট্রেনটি হঠাৎ চলতে শুরু করতে পারত বা বড় ধরনের শর্ট সার্কিট ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারত, যা প্ল্যাটফর্মে থাকা শত শত যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল।

আরও পড়ুনঃ  ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ তৈরি হবে সোমবার সকালের মধ্যেই! দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের মেঘ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি

পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া দাবি

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর পূর্ব রেল (Eastern Railway) কর্তৃপক্ষের কাছে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে:

১. কেবিনের নিরাপত্তা জোরদার করা: সমস্ত লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকো পাইলটের কেবিন বা ক্যাব সব সময় কঠোরভাবে লক বা তালাবন্ধ রাখার কড়া নিয়ম কার্যকর করতে হবে।

২. স্টেশন চত্বরে কড়া নজরদারি: প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো মানসিক ভারসাম্যহীন বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. আরপিএফ ও জিআরপি-র ভূমিকা: ট্রেনের ইঞ্জিন ও সংবেদনশীল জোনগুলির আশেপাশে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (GRP)-এর টহলদারি ও কড়া পাহারা নিশ্চিত করতে হবে।

“যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে—নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়!” এই নীতিকে সামনে রেখে পূর্ব রেল প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ করবে—এমনটাই এখন সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহলের প্রধান দাবি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন