বিশেষ প্রতিবেদন:
শারদোৎসবের আনন্দ ফুরোতে না ফুরোতেই আগামী বছরগুলিতে দুর্গোৎসবের দিনক্ষণ ও পঞ্জিকার হিসাব-নিকাশ নিয়ে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে চরম চর্চা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে ভাইরাল হওয়া একটি আকর্ষণীয় পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, পঞ্জিকার নিয়ম ও গণিতের মারপ্যাঁচে আগামী দিনে দুর্গাপুজোর তিথিতে এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ অসঙ্গতি দেখা দিতে চলেছে। এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও কৌতূহল।
পঞ্জিকার মারপ্যাঁচে অদ্ভুত তিথি বিভ্রাট
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী জোড়া নবমী তিথি পড়ার কথা রয়েছে, আবার অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী নাকি দুটো অষ্টমী পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিথির এই অদ্ভুত সমীকরণ ও পঞ্জিকার হিসাবের গরমিল নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে ২০২৮ সালের দুর্গাপুজোর সময়সূচি।
তিন সপ্তাহের বিশাল ব্যবধান ২০২৮-এ!
২০২৮ সালে এই দুই পঞ্জিকার দুর্গাপুজোর দিনখণের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত দেখা যাবে। দুই পঞ্জিকার পুজো শুরুর মাঝে প্রায় তিন সপ্তাহের দীর্ঘ ব্যবধান বা ফারাক তৈরি হতে পারে।
হিসাব বলছে, ২০২৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী পুজো সম্পন্ন হয়ে যাবে। যার অর্থ দাঁড়ায়, বেলুড় মঠ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং রাজ্যের আরও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী মঠ-মিশনের পুজো এই বিশুদ্ধ সময় মেনেই অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, প্রায় সমস্ত বনেদি বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারি এবং বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থাসমূহের দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। দুই পঞ্জিকার নিয়মে পুজোর এই দীর্ঘ ব্যবধান দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গেছেন আমজনতা।
আরও পড়ুনঃ হয়নি দেবীবরণ, অন্ধকার মণ্ডপ; সিট-এর তদন্ত চলায় চোরবাগানে মায়ের বিসর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্মৃতিচারণা ও নয়ের দশকের নস্ট্যালজিয়া
পঞ্জিকার এমন অদ্ভুত তিথির হেরফের বা ব্যবধানের ঘটনা এর আগে আশির দশকে একবার ঘটেছিল বলে গুরুজনদের মুখে শোনা যায়। কিন্তু দীর্ঘ এত বছর পর যে এমন ঘটনা আবার নিজের চোখে দেখতে পাওয়া যাবে, তা অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি।
পঞ্জিকার এই জটিল অঙ্ক এবং দুই আলাদা সময়ে পুজোর সম্ভাবনা নিয়ে এখন থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে বাংলার উৎসবপ্রেমী মানুষের মনে।


