বিশেষ রাজ্য প্রতিবেদন:
মহাসপ্তমীর অভিশপ্ত সন্ধ্যায় ১৯ জন দর্শনার্থীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর অবশেষে বিসর্জন হলো চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রতিমা। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রধান তথা কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর সবুজ সংকেত মেলার পর শনিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের পথে এগোয় পুজো কমিটি। তবে গত বছরের আনন্দ বা উৎসবের উল্লাসের ছিটেফোঁটাও ছিল না সেখানে; ঢাকের বোল, ধুনুচি নাচ কিংবা সিঁদুর খেলা এড়িয়ে সম্পূর্ণ বিষাদময় ও থমথমে পরিবেশে মা দুর্গাকে বিদায় জানালেন এলাকার অধিবাসীরা।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান; কোজাগরীতেই ‘ঘরে’ ফিরছেন মা তারা
তদন্তের স্বার্থে বিশেষ সতর্কতা ও প্রতিমা নিষ্কাশন
ঘটনার পর থেকে মণ্ডপটি ছিল পুলিশ ও সিটের নজরদারিতে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপের মূল কাঠামো বা কোনো অংশে যাতে এতটুকু আঁচ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, প্রতিমা বের করার সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে প্রায় ৪০ জন কুলিকে আনা হয়। শনিবার দুপুরে মণ্ডপের মূল পরিকাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মা দুর্গার প্রতিমা বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর কিছুক্ষণের জন্য সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ওপর প্রতিমা রাখা হলে সেখানে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা অশ্রুসজল চোখে দেবীকে বিদায় জানান। পুজোয় কোনো খামতি বা অমঙ্গল থেকে গেল কি না—এই আক্ষেপে বারবার মায়ের চরণে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা যায় উপস্থিত মানুষকে।
সিটের সরেজমিন পরিদর্শন ও বিসর্জনের ছাড়পত্র
মহাসপ্তমীর অঘটন ও তার পরবর্তী আইনি জটিলতার কারণে বিজয়া দশমী পেরিয়ে গেলেও চোরবাগানের প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সিট প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতী নিজে চোরবাগানের দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান যে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত না করে মণ্ডপটি হুবহু একই অবস্থায় রেখে প্রতিমা নিরঞ্জনে সিটের কোনো আপত্তি নেই। সেই অনুমতিপত্র হাতে পাওয়ার পরই শনিবার বিসর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগান থেকে শিক্ষা, কালীপুজোর ভিড় সামলাতে প্রস্তুত প্রশাসন
তদন্ত ও গ্রেফতারির আপডেট
উল্লেখ্য, গত মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপ চত্বরে ঢোকা ও বেরোনোর পথে চরম হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, যার পরিণতিতে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। ঘটনার পরেই পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনায় এই সিট গঠন করা হয়েছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ২ জন ঘোষকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তের বাকি প্রক্রিয়া চলাকালীনই শনিবার কোনো ঢাকের আওয়াজ বা উদযাপনের মেজাজ ছাড়াই চোখের জলে শেষ হলো চোরবাগানের পুজো।


