বিশেষ আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
২৬/১১-এর মুম্বই হামলার মতো সমুদ্রপথে ভারতকে ফের নিশানা করতে বড়সড় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba)। গোয়েন্দা সূত্রের বিস্ফোরক তথ্যে জানা গেছে, পাকিস্তানের করাচি উপকূল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে অবস্থিত চরনা দ্বীপে (Charna Island) লস্কর জঙ্গিদের সমুদ্রযুদ্ধের বিশেষ মহড়া ও স্কুবা ডাইভিংয়ের গোপন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ পর্যটকদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পর্যটকের ছদ্মবেশে এই দুর্ধর্ষ সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ শিবিরটি পরিচালনা করছে জঙ্গিরা।
আরও পড়ুনঃ জন্মদিনের মধ্যরাতে উত্তপ্ত কালীঘাট; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ
১. ‘দাওয়া মেরিন উইং’ ও প্রশিক্ষণের কৌশল
-
বিশেষ সামুদ্রিক শাখা: লস্কর-ই-তইবার বিশেষ সামুদ্রিক ডানা ‘দাওয়া মেরিন উইং’ (Dawat Marine Wing)—যা ‘সাদা-এ-হুরিয়ত’ নামেও পরিচিত, তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে।
-
প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু: জঙ্গিদের স্কুবা ডাইভিং (Scuba Diving), জলের গভীরে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকার কৌশল, কমব্যাট সুইমিং (Combat Swimming) এবং সামুদ্রিক অভিযানের আধুনিক প্রযুক্তি শেখানো হচ্ছে। লস্করের রাজনৈতিক শাখা ‘পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ’-এর সদস্যরা প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে।
-
ছদ্মবেশের কৌশল: দ্বীপটি জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় বহিরাগত ও সাধারণ মানুষের কাছে এই জঙ্গিদের ‘সাধারণ পর্যটক’ হিসেবে তুলে ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
২. পাক নৌসেনার ফায়ারিং রেঞ্জের সুযোগ ও অতীতের ইতিহাস
-
ভৌগোলিক নিরাপত্তা: চরনা দ্বীপ সংলগ্ন এলাকাটি পাকিস্তানের নৌসেনা (Pakistan Navy)-র ফায়ারিং রেঞ্জ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সামরিক আবহের সুবাদেই সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে এমন একটি বড় জঙ্গি ক্যাম্প পরিচালনা করা সুবিধাজনক হয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
-
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ধাক্কা: এর আগে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মংলা বাঁধে কৃত্রিম লঞ্চপ্যাড ও সুইমিং পুল বানিয়ে লস্কর জঙ্গিদের সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তবে ভারতের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সেই ঘাটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ঘাঁটি বদল করে চরনা দ্বীপে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অসুস্থ হস্তিশাবক মায়া, বিশেষ চিকিৎসার জন্য ‘বনতারা’-য় পাঠাল কেরল বন দফতর
৩. ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি ও প্রস্তুতি
২৬/১১ মুম্বই হামলার ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণে রেখে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি লস্করের এই গোপন তৎপরতার ওপর কড়া নজর রাখছে। করাচি উপকূলের এই গতিবিধির খবর পাওয়ার পর থেকেই ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy) ও কোস্ট গার্ড (Coast Guard)-কে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সমুদ্রপথে ভারতীয় ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রুখতে উপকূলীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার ও নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।


