কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
প্রতিবেশী দেশ ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে চরম উদ্বেগের মুখে পড়ল উত্তরবঙ্গ। ভুটানের সিন্তাফুচু (Sintafuchu) এলাকায় আকস্মিক এক ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে বিরাট অংশের মাটি ও পাথর ধসে পড়ার ফলে সেখানকার নদীগুলির স্বাভাবিক গতিপথ বিঘ্নিত হয়েছে। এর জেরে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলির জলস্তর আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে তটস্থ রয়েছে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স ও সংলগ্ন সমতল এলাকার নদী তীরবর্তী জনপদগুলি।
আরও পড়ুনঃ কালিম্পংয়ের চালতা জঙ্গলে ভয়াবহ দাবানল; বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে ঢোকার আশঙ্কা
১. সিন্তাফুচুর ধস ও নদীর গতিপথে বাধা
-
ভয়াবহ ধসের রূপ: ভুটানের পাহাড়ি জনপদ সিন্তাফুচু ও তার সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় ভারী বর্ষণ বা ভূপ্রাকৃতিক কারণে বড় ধরনের ধস নামে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল, কাদা ও পাথর গড়িয়ে গিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি নদীগুলির জলপ্রবাহকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
-
জমে থাকা জলের চাপ: নদীখাতে ধসের জেরে কৃত্রিম উপায়ে জল আটকে বা বাধা পেয়ে বিশাল হ্রদের মতো জলস্ফীতি তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় যদি জলস্তর আচমকা উপচে পড়ে, তবে নিম্নাঞ্চলে হড়পা বান (Flash Flood) বা তীব্র জলপ্লাবনের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
২. উত্তরবঙ্গের সমতল ও ডুয়ার্সে আশঙ্কার কালো মেঘ
ভুটান পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে যে নদীগুলি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, সেগুলি নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে:
-
জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা: ভুটানের অংশে এমন ধসের কারণে তোর্সা, রায়ডাক, জলঢাকা, কালজানি কিংবা সঙ্কোষের মতো নদীগুলিতে যেকোনো মুহূর্তে জলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
-
নদী তীরবর্তী মানুষের আতঙ্ক: অতীতেও ভুটান অংশে পাহাড়ি ধস বা হড়পা বানের কারণে উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে বর্তমানে নদীগুলির তীরবর্তী চা বাগান ও গ্রামগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ লাল ‘বিমানে’ আটকে গেল গোটা ট্রাম! ‘লাল ব্রিগেড’ সম্মেলন শেষে নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী কলকাতা
৩. প্রশাসন ও সেচ দপ্তরের নজরদারি
-
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ: পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসন ও সেচ দপ্তর (Irrigation Department)। ভুটান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির ওপর অবিরাম নজর রাখা হচ্ছে।
-
মাইকিং ও সতর্কতা: নদীগুলির জলস্তর হঠাৎ বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে নদীর চরে বা নিচু জমিতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী ব্লকগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে যাতে যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।


