নেপালে হিমবাহ ধস ও বিধ্বংসী হড়পা বানের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কেঁপে উঠল হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল। বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৪৬ মিনিট নাগাদ তিব্বতে ৫ মাত্রার এক জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভারতের জাতীয় ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (National Center for Seismology) জানিয়েছে, এই কম্পনের উৎস ছিল ভূগর্ভের মাত্র ১৪ কিলোমিটার গভীরে। তিব্বতের পাশাপাশি নেপাল, দক্ষিণ চীন এবং ভারতের উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠসহ সংলগ্ন এলাকায় এই কম্পন টের পাওয়া গেছে। নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পাহাড়ি অঞ্চলে ফের বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় জাঁকিয়ে বসেছে আতঙ্ক।
আরও পড়ুনঃ বিধ্বস্ত নেপালে আড়াই বছরের বোনের ঢাল চার বছরের দাদা! ছবি দেখে আবেগপ্লুত নেটদুনিয়া
সাম্প্রতিক বিপর্যয় ও নেপালের করুণ চিত্র
গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের জেরে যে হড়পা বান নেমে এসেছিল, তার ক্ষত এখনও টাটকা:
-
ভোটেকোশী নদীর তাণ্ডব: গত সপ্তাহের বিপর্যয়ে ভোটেকোশী নদীর জলস্তর নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গিয়ে উপত্যকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
-
মৃত ও নিখোঁজের পাহাড়: নেপালে এ পর্যন্ত ১,২৫২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও ৪,২১৬ জন নিখোঁজ। পচন ধরার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে গণকবর দিচ্ছে নেপাল সরকার।
আরও পড়ুনঃ ‘ইয়া আলি’, কণ্ঠ থামলেও সুর থামে না; এক বছর পার জ়ুবিনের মৃত্যু
বিজ্ঞানীমহলের সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
| বিষয় | ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও বর্তমান ঝুঁকি |
| অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি | বিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয়ের খাঁজে খাঁজে হিমবাহ ধসের ফলে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে, যেখানে গ্যালন গ্যালন জল জমছে। |
| নতুন প্লাবনের ঝুঁকি | নতুন এই ভূমিকম্পের ফলে ওই অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধগুলি ভেঙে গেলে ফের তীব্র গতিতে জল ও কাদা উপত্যকার দিকে তেড়ে আসতে পারে, যার ফলে আবারও হড়পা বানের সৃষ্টি হতে পারে। |
চীন ও ভারতের বিজ্ঞানীরা সামগ্রিক পরিস্থিতি ও হিমালয়ের ভূ-প্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। তবে ঘন ঘন ভূমিকম্পে পাহাড়ের ঢাল আরও আলগা হয়ে যাওয়ায় বড় দুর্যোগের মেঘ জমছে হিমালয় অঞ্চলে।


