কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বুদ্ধের দেশ নেপাল। চতুর্দিকে শুধুই হাহাকার আর মৃত্যুর মিছিল। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে দিন-রাত এক করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ভারতীয় সেনার দুঃসাহসী মহিলা অফিসার, ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক সংকটজনক মানুষকে নিরাপদে বের করে এনে তিনি এখন নেপালের মানুষের কাছে আশার আলো।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ি শহরে আজ বিকেলে ঘটে রোমাঞ্চকর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা! কিন্তু ঘটলটা কি?
“শান্তির দেশে বিপর্যয় মানা যায় না”: প্রিয়া অধিকারী
ছোটবেলা থেকেই দেশের সেবা ও মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী এই উদ্ধার অভিযানকে নিজের পরম ভাগ্য বলে মনে করছেন। উদ্ধারকাজে ব্যস্ততার মাঝেই তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন:
-
বুদ্ধের দেশের বার্তা: প্রিয়া অধিকারী জানান, “নেপাল হলো ভগবান বুদ্ধদেবের জন্মভূমি, যা শান্তির প্রতীক। এমন শান্তির দেশে মানুষ এভাবে প্রাণ হারাবে, তা ভাবা যায় না। তাই যতক্ষণ শরীরে ক্ষমতা থাকবে, ততটা দিয়ে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
-
সুযোগকে কাজে লাগানো: তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি যে এমন একটা পেশায় রয়েছি, যেখানে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ মেলে। আজ যখন সেবার এই বড় সুযোগ এসেছে, আমি তা হাতছাড়া করতে চাই না।”
আরও পড়ুনঃ পিছিয়ে গেল কলকাতা; নদীয়ার শান্তিপুরের কানাইবঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল টেকনোলজি
উদ্ধার অভিযানের রূপরেখা ও সাহসিকতা
| ক্ষেত্র | উদ্ধারকাজের চিত্র ও প্রতিক্রিয়া |
| অভিযানের ধরন | ধসে পড়া ঘরবাড়ি ও কঠিন ভূখণ্ডের মধ্যে অবিরাম অনুসন্ধান চালিয়ে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা। |
| ক্যাপ্টেনের ভূমিকা | নিজের জীবন বাজি রেখে ধ্বংসাবশেষের ভেতরে ঢুকে দুর্গতদের দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া। |
| স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া | দিন-রাত এক করে কাজ করা এই অদম্য সাহসী মহিলা সেনানিকে নেপালের দুর্গত মানুষ ও উদ্ধারকারী দলের অন্যান্য সদস্যরা কুর্ণিশ জানাচ্ছেন। |
নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গিয়ে যত বেশি সম্ভব জীবন বাঁচানোই এখন প্রিয়া অধিকারী ও তাঁর উদ্ধারকারী দলের একমাত্র লক্ষ্য।


