বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
সক্রিয় নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টি এবং তার ওপর দুর্গাপুর ব্যারেজ ও ডিভিসি (DVC) থেকে জল ছাড়ার সম্মিলিত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ফের প্লাবনের কালো ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার সকালে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৯৬,৯০০ কিউসেক জল ছাড়ার পর দামোদর ও তার উপনদীগুলির জলস্তর দ্রুত বিপদসীমা ছুঁতে চলেছে। আসন্ন উৎসবের মরশুমে দামোদরের নিম্ন অববাহিকার তিনটি প্রধান জেলা—পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়ায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
আরও পড়ুনঃ অভূতপূর্ব সংকট; পুরীর ইঁদুরের তাণ্ডবে কাহিল খোদ জগন্নাথ দেব!
বৃষ্টিপাত ও জল ছাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি
-
বৃষ্টি ও সতর্কবার্তা: বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ায় ৭ থেকে ১১ সেমি পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি পুরো দক্ষিণবঙ্গে ৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
-
জলাধারের চাপ: ঝাড়খণ্ড ও বিহারের উপচে পড়া জল সামলাতে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকেও জল ছাড়া অব্যাহত। দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে বর্তমানে ১ লক্ষ কিউসেকের কাছাকাছি জল ছাড়ায় নিচু এলাকাগুলি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ পিছিয়ে গেল কলকাতা; নদীয়ার শান্তিপুরের কানাইবঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল টেকনোলজি
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও জেলাভিত্তিক প্রভাব
সাধারণত ১ লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছাড়লেই নিম্ন অববাহিকায় প্লাবন দেখা দেয়। বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির চিত্র:
| জেলা | সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও প্লাবনপ্রবণ ব্লক/এলাকা |
| পূর্ব বর্ধমান | দক্ষিণ দামোদর সংলগ্ন জামালপুর, রায়না এবং খণ্ডঘোষের নিচু এলাকা। |
| হুগলি | আরামবাগ মহকুমা (বিশেষ করে আরামবাগ, খানাকুল ১ ও ২ নম্বর ব্লক এবং পুরশুড়া)। |
| হাওড়া | উদয়নারায়ণপুর এবং আমতা ১ ও ২ নম্বর ব্লকের কৃষি জমি ও বসতি এলাকা। |
প্রশাসনের তৎপরতা ও বিগত বছরের (২০২৪) তুলনা
নবান্নের নির্দেশে নদী তীরবর্তী ও মাটির বাড়িতে থাকা মানুষদের দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে বা ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের ২৪ ঘণ্টা বাঁধ ও জলস্তরের ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরের (২০২৪) স্মারক পরিস্থিতি:
২০২৪ সালের অগস্টের শুরুতে ব্যারেজ থেকে ১.১৫ থেকে ১.৫ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের ১৬-১৭ তারিখে গভীর নিম্নচাপের জেরে রেকর্ড ২ লক্ষ ১০ হাজার কিউসেকের বেশি জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন, যার ফলে আরামবাগ, ঘাটাল, খানাকুল ও উদয়নারায়ণপুর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। বর্তমান বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ২০২৪-এর সেই চরম দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কায় দিন গুনছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।


