বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, নদীয়া:
পড়ুয়া স্কুলে প্রবেশ করল কিংবা বেরোল—মুহূর্তের মধ্যেই সেই নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে অভিভাবকের স্মার্টফোনে। কমবে খুদে পড়ুয়াদের পিঠের ভারী বই-খাতার চাপও। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে অভিনব ডিজিটাল উদ্যোগ নিল নদিয়ার শান্তিপুরের কানাইবঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো ডিজিটাল স্কুল ম্যানেজমেন্ট এবং পেরেন্ট কমিউনিকেশন সিস্টেম।
আরও পড়ুনঃ গঙ্গা ও ফুলহরের গ্রাসে স্কুল ভবন; মালদার ৯টি প্রাথমিক স্কুলে পঠনপাঠন স্থগিত
স্মার্ট আইকার্ড ও ‘পেরেন্ট অ্যাপ’-এর কার্যকারিতা
স্কুলের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগ নিবিড় করা এবং খুদে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ডিজিটাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য:
-
ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স ও নোটিফিকেশন: সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ‘ডিজিটাল স্মার্ট আইকার্ড’। আইকার্ডটি স্ক্যান করে স্কুলে প্রবেশ ও ছুটির পর বেরোনোর সাথে সাথেই ‘পেরেন্ট অ্যাপ’-এর মাধ্যমে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে অভিভাবকদের মোবাইলে।
-
পড়াশোনার আপডেট: ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লাসের হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট, পরীক্ষার তথ্য ও প্রোগ্রেস/রিপোর্ট কার্ডও সরাসরি অ্যাপে দেখতে পাবেন অভিভাবকরা।
-
ব্যাগের বোঝা কমানোর উদ্যোগ: ভবিষ্যতে মোবাইল ও ডিজিটাল অ্যাপের সাহায্যে পঠন-পাঠনের কিছু অংশ সম্পাদন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে খুদেদের অতিরিক্ত বই-খাতার ভারী বোঝা বইতে না হয়।
আরও পড়ুনঃ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন ১.৪ কোটি মানুষ; নেপালের পর কলকাতা ও মুম্বই!
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার পরিকাঠামো
| ক্ষেত্র | পরিকাঠামোগত উদ্যোগ |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | স্মার্ট আইকার্ডের আগে নিজেদের উদ্যোগে গোটা বিদ্যালয় চত্বরে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। |
| অ্যাকেডেমিক সুবিধা | বিদ্যালয় পরিচালনার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা সামগ্রী আদান-প্রদান। |
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
কানাইবঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিম সেন জানান, “আমরা সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক মানোন্নয়নের চেষ্টা করি। প্রযুক্তি এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা চাই ছাত্র-ছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির সঠিক ও গঠনমূলক ব্যবহার শিখুক। পাশাপাশি, অভিভাবকদের সাথে স্কুলের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সন্তানদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেই এই পেরেন্ট অ্যাপ ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হলো।”


