বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাস উল্টে কেবল রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দেওয়া বা ভিনগ্রহের মাটি স্পর্শ করাই শেষ কথা নয়; চাঁদ কিংবা মঙ্গলের মতো চরম বিরূপ পরিবেশে মানুষ ঠিক কীভাবে দীর্ঘদিন নিরাপদে টিকে থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এই বৈপ্লবিক প্রশ্নের উত্তর দিতেই ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা এক অভিনব বাসযোগ্য স্পেস-হাবিট্যাটের (Space Habitat) রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন। ভারতের পৌরাণিক শক্তির প্রতীক হিসেবে এই মহাকাশ-বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভীম’ (BHEEM)।
কীভাবে এল ‘ভীম’-এর ধারণা?
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং ভিনগ্রহের কঠিন পরিবেশ ও তেজস্ক্রিয়তার চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ থেকেই গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার মাথায় এই বাসস্থানের মূল ধারণাটি আসে:
-
স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সুরক্ষিত পরিকাঠামো: চাঁদ বা মঙ্গলের প্রচণ্ড বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য, চরম তাপমাত্রা এবং ক্ষতিকারক মহাজাগতিক বিকিরণ (Cosmic Radiation) থেকে মানবদেহকে রক্ষা করার মতো টেকসই কাঠামো তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
-
বিশাল আকৃতি ও নামকরণ: পৌরাণিক চরিত্র ‘ভীম’-এর মতো বিশাল আকৃতি, সহনশীলতা এবং অদম্য শক্তির কথা মাথায় রেখেই এই ইনফ্লেটেবল (Inflatable/স্ফীতযোগ্য) এবং মডিউলার বাসস্থানের নকশা ভাবা হয়েছে।
-
সহজ পরিবহন ও সংস্থাপন: মহাকাশযানে কম জায়গায় বহন করে নিয়ে গিয়ে ভিনগ্রহের মাটিতে পা রাখার পর সেটিকে বৃহদাকার বাসস্থানে রূপান্তর করার প্রযুক্তিই ‘ভীম’-এর ধারণার মূল ভিত্তি।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার ট্রাম পুনরুজ্জীবন ও পরিবহন আধুনিকীকরণে সহযোগিতা; রাজ্য পরিবহন দপ্তরে বৈঠক অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেলের
‘ভীম’-এর মূল বৈশিষ্ট্য ও বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো
| প্রযুক্তির ক্ষেত্র | বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা |
| রেডিয়েশন সুরক্ষা | বিশেষ ধরনের বহুস্তরীয় ইনফ্লেটেবল উপাদান দিয়ে তৈরি, যা ক্ষতিকারক মহাজাগতিক রশ্মি ও উল্কাপাত (Micrometeorites) থেকে বিজ্ঞানীদের রক্ষা করবে। |
| লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম | ভেতরে নিজস্ব অক্সিজেন সরবরাহ, জল পুনর্নবীকরণ (Water Recycling) এবং কৃত্রিমভাবে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখার ব্যবস্থা। |
| মডিউলার ল্যাব ও লিভিং স্পেস | একসঙ্গে একাধিক বিজ্ঞানীর গবেষণা চালিয়ে যাওয়া, ঘুমানো, শরীরচর্চা ও খাদ্য সংরক্ষণের জন্য পৃথক স্থান নির্বাচন। |
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার প্রস্তাবিত এই ‘ভীম’ হাবিট্যাট ভবিষ্যতে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন বা চাঁদ-মঙ্গলে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।


