বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কমিউনিস্টদের ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে তগমা দেওয়ার পাল্টা জবাব দিতে এক অনন্য পথ বেছে নিল সিপিআই(এম)। ভারতের স্বাধীনতার ৭৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও রাজনৈতিক মঞ্চে ‘রাষ্ট্রবাদ’ বনাম ‘দেশপ্রেম’-এর যে তরজা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে, তার উত্তর খুঁজতেই নদিয়ার কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে আয়োজিত পার্টির রাজ্য বর্ধিত অধিবেশনে আয়োজন করা হলো এক বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর।
বিজেপির এই বয়ানের বিপরীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে কমিউনিস্টদের বহুমুখী অবদান এবং সশস্ত্র বিপ্লবীদের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ ‘লাল’ ভয় আউট ছাত্রদের ভরসা ইন! বিলম্বিত বোধোদয় যাদবপুরে
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া বিশিষ্ট মুখ ও ঐতিহাসিক প্রবাহ
ঋত্বিক সদনের প্রবেশপথে ফ্লেক্স ও ছবির মাধ্যমে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন ধারা ও বীর সংগ্রামীদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। বহু পরিচিত এবং বিস্মৃত ব্যক্তিত্বদের ছবি পাশাপাশি স্থান পেয়েছে:
-
সশস্ত্র বিপ্লব ও স্বাধীনতা সংগ্রামী: মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগৎ সিং, আশফাকুল্লা খান।
-
কমিউনিস্ট আন্দোলনে রূপান্তরিত বিপ্লবীরা: গণেশ ঘোষ (চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের বিপ্লবী, যিনি পরবর্তীতে কমিউনিস্ট আন্দোলনে যুক্ত হন), কল্পনা দত্ত, মেজর জয়পাল সিং, ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগল।
-
কমিউনিস্ট আন্দোলনের অগ্রদূত ও প্রবীণ নেতৃত্ব: এম এন রায়, মুজফ্ফর আহমদ, পি সি জোশি, এ কে গোপালন, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ এবং সরোজ মুখোপাধ্যায়।
স্থানীয় ইতিহাস ও নদিয়ার কৃষক আন্দোলন
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো স্থানীয় মাটি ও মানুষের লড়াইকে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করা।
-
নদিয়ার ভূমিকা: ঋত্বিক সদনের ভেতরের অংশে প্রবেশপথেই তুলে ধরা হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে নদিয়া জেলার ঐতিহাসিক অবদান।
-
কৃষক আন্দোলন: অবিভক্ত নদিয়ার কৃষক আন্দোলন ও শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নেপালের মর্গে মর্গে ভয়াবহ দৃশ্য, দেওয়া হচ্ছে গণকবর
নেতৃত্বের বক্তব্য ও রাজনৈতিক বার্তা
সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী জানান, ইতিহাসের পথ কখনো সরলরেখায় চলে না। একসময় যাঁরা সশস্ত্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার তাগিদে কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন তথা কমিউনিস্ট রাজনীতির ধারায় সামিল হয়েছেন।
সংগঠকদের মতে, স্বাধীনতার রক্তিম ইতিহাসের অধিকার কোনো একটি বিশেষ মতাদর্শ বা দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। সেই ইতিহাসের ক্যানভাসে যেমন নানা রঙ রয়েছে, তেমনই লাল রঙের অবদানও কম নয়। বিজেপির রাজনৈতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে এই প্রদর্শনীই সিপিএমের প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে।


