বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
রেলের দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি উদ্ধারকাজে গতি আনতে কাঁকিনাড়া স্টেশনে এক পূর্ণাঙ্গ মক ড্রিলের আয়োজন করল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলে রেলের নিজস্ব রেসকিউ টিম, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), দমকল, স্থানীয় প্রশাসন এবং চিকিৎসকেরা কতটা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে পারে, তা খতিয়ে দেখতেই এই যৌথ মহড়া পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুনঃ ছয় বছরেই দুই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড! লেখালেখি থেকে টেডএক্স—নজির গড়ল ভুবনেশ্বরের অন্বি
কাল্পনিক দুর্ঘটনার রূপরেখা
মহড়ায় একটি চালকবিহীন ও সিগন্যাল অমান্যকারী ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের সংঘর্ষের কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়:
-
ঘটনাচক্র: ০০৩৫১ শিয়ালদহ–লালগোলা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের পর কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের পয়েন্ট সুরক্ষায় ত্রুটি হয়। একই সময়ে সিগন্যাল অমান্য করে এগিয়ে আসা অন্য একটি ট্রেনের সাথে তার সংঘর্ষ দেখানো হয়।
-
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: সংঘর্ষে একটি কোচ লাইনচ্যুত হয় এবং অন্য একটি কোচ উল্টে যায়। কাল্পনিকভাবে ১ জনের মৃত্যু, ৫ জন গুরুতর আহত এবং ৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হয়।
আধুনিক প্রযুক্তিতে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা সহায়তা
মহড়ায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ক্ষতিগ্রস্ত কোচের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২০ জন ‘ডামি যাত্রীকে’ উদ্ধার করা হয়।
-
অত্যাধুনিক সরঞ্জাম: কোচের বডি কেটে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে হাই-ক্যাপাসিটি কাটার, সেপারেটর এবং প্লাজমা কাটিং টুলস ব্যবহার করেন উদ্ধারকারীরা।
-
হাসপাতালে স্থানান্তর: গুরুতর আহতদের দ্রুত নৈহাটি, জগদ্দল স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং বি.এন. বোস হাসপাতালে পাঠানোর ডামি অনুশীলন চালানো হয়।
-
সময়সীমা: বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই মহড়ায় সমস্ত উদ্ধারের পর রাত ১২টায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ চিনির দামে আগুন, কালোবাজারি রুখতে সুইগি, ব্লিনকিট ও জেপ্টোতে বসল কেনাকাটায় রাশ
মহড়ায় অংশ নেওয়া কর্মীবাহিনী
| বাহিনী / সংস্থা | অংশগ্রহণকারী সদস্য সংখ্যা |
| RPF কর্মী | ৭৫ জন |
| NDRF সদস্য | ৩৫ জন |
| প্যারামেডিক্যাল কর্মী | ৩৬ জন |
| স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস | ৩১ জন |
| সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স | ২৯ জন |
| সিভিল ডিফেন্স কর্মী | ২৩ জন |
| দমকল বাহিনী | ৮ জন |
| চিকিৎসক দল | ৭ জন |
প্রশাসনের ভূমিকা ও বার্তা
শিয়ালদহের ডিআরএম (DRM) রাজীব সাক্সেনার নেতৃত্বে এবং সিনিয়র ডিএসও (DSO) সুজিত কুমার সিনহার উপস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালিত হয়।
ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানান, এই ধরনের বাস্তবমুখী মহড়া জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ায় এবং বাস্তবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ত্রুটিমুক্তভাবে ও দ্রুততার সাথে উদ্ধারকাজ শেষ করতে সাহায্য করে।


