বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন:
শরতের কাশফুল, শিউলির গন্ধ আর ঢাকের আবছা আওয়াজের সাথেই বাঙালি মেতে ওঠে বছরের সেরা উৎসবে। কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যের পিতৃগৃহে উমার আগমনকে ঘিরে শুরু হয় চিরন্তন ব্যাকুলতা। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় শাস্ত্রীয় পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ‘ঘোটক’ অর্থাৎ ঘোড়ায়।
আরও পড়ুনঃ বড়দিনের অ্যালেন পার্কে ইতিহাস গড়ার তোড়জোড়; প্রথমবার হতে চলেছে দুর্গাপুজো
মহাসপ্তমীর বার ও বাহন নির্ধারণ
পঞ্জিকার প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, মহাসপ্তমী কোন বারে পড়ছে তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় দেবী দুর্গার আগমনের বাহন।
-
বাহন নির্ধারণের নিয়ম: সপ্তমী যদি মঙ্গলবার বা শনিবার পড়ে, তবে দেবীর আগমন ঘটে ঘোটকে।
-
২০২৬-এর সমীকরণ: ২০২৬ সালে মহাসপ্তমী তিথি শনিবারে পড়ায় শাস্ত্রীয় গণনায় দেবীর আগমন বাহন নির্বাচিত হয়েছে ঘোড়া।
আরও পড়ুনঃ আজ ২৭ নাকি কাল ২৮ অগাস্ট, ভাইকে কবে রাখি পরানো সবচেয়ে শুভ?
‘ছত্রভঙ্গ’ ও গতির প্রতীকী ব্যঞ্জনা
শাস্ত্রে দেবী দুর্গার ঘোটকে আগমনকে খুব একটা শুভ বলে মনে করা হয় না। তবে এই গণনার পেছনে রয়েছে গভীর প্রতীকী ব্যাখ্যা:
-
শাস্ত্রীয় ও জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা: সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী ঘোড়ায় আগমনকে ‘ছত্রভঙ্গ’-এর ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়, যা সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক রদবদল এবং পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেয়।
-
ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ: প্রতীকী অর্থে ঘোড়া হলো দ্রুতি ও গতির প্রতীক। স্থবিরতাকে ভেঙে ফেলে সমাজে নতুন গতি আনা, অন্ধকার ও জড়তাকে কাটিয়ে মর্ত্যে নবজাগরণের আলো জ্বালানোর আহ্বান হিসেবেও এটিকে দেখা হয়।
বাঙালির চিরায়ত বিশ্বাস
লোকবিশ্বাস বা জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালির কাছে দেবীর প্রকৃত পরিচয় শুভশক্তির আগমন এবং অভয়দাত্রী রূপে। সব ভয়, আশঙ্কা ও দুর্যোগকে পেছনে ফেলে দেবী দুর্গার পদধ্বনিতে পৃথিবীর বুক ভরে উঠুক নতুন সাহস ও শক্তিতে—এই প্রত্যাশাতেই ২০২৬-এর শারদোৎসবের দিন গুনছে বাঙালি।


