বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
কলকাতার ক্রিসমাস ও বড়দিনের কার্নিভালের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ঠিকানা পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক পেতে চলেছে এক সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়। এই প্রথমবার অ্যালেন পার্কের ভেতরেই আড়ম্বরের সঙ্গে দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে চলেছে ‘কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘ’। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে এসে বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও সনাতনী ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে উৎসবের নীল নকশা।
আরও পড়ুনঃ আজ ২৭ নাকি কাল ২৮ অগাস্ট, ভাইকে কবে রাখি পরানো সবচেয়ে শুভ?
বিজেপি নেতৃত্ব ও বিশিষ্টদের উদ্যোগ
এই পুজো কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বিজেপি সাধারণ সম্পাদক নবীন মিশ্র এবং সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র শঙ্কুদেব পাণ্ডা। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, প্রায় ২০০ বছর আগে পার্ক স্ট্রিটে ছোট পরিসরে একবারই দুর্গাপুজো হওয়ার পর আর পুজো হয়নি। এবার সনাতনী আচার মেনে পার্ক স্ট্রিটকে ঐতিহ্যগতভাবে পুজোর মানচিত্রে জায়গা করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
-
অ-রাজনৈতিক আবহ ও স্পনসরশিপ: আয়োজকদের দাবি, পুজোটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে শহরের বিশিষ্ট নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবীদের যুক্ত করা হচ্ছে।
-
খুঁটি পুজো নয়, ‘ভূমি পুজো’: চিরাচরিত ‘খুঁটি পুজো’র প্রথা এড়িয়ে সনাতনী শাস্ত্রীয় আচার মেনে আগামী সপ্তাহে অ্যালেন পার্কে অনুষ্ঠিত হবে ‘ভূমি পুজো’। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
মূল আকর্ষণ: বারাণসীর আরতি ও লোকসংস্কৃতি
-
বারাণসীর আদলে সন্ধ্যা আরতি: চতুর্থী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় বারাণসীর গঙ্গা আরতির আদলে অ্যালেন পার্কে বিশাল আকার ও আড়ম্বরে বিশেষ মহাধূপ আরতির আয়োজন করা হবে।
-
বাংলার লোকসংস্কৃতি: পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তরবঙ্গ ও অন্যান্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বাউল গান সহ বৈচিত্র্যময় লোকসংগীতের সাংস্কৃতিক আয়োজন। উৎসবের আবহ শুরু হতে পারে মহালয়া থেকেই।
আরও পড়ুনঃ হাই অ্যালার্ট সীমান্তে! জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা জঙ্গলে সন্দেহভাজন স্যাটেলাইট সিগন্যাল
বড়দিনের উৎসবের সঙ্গে কি সংঘাত?
অ্যালেন পার্ক দীর্ঘ দিন ধরেই কলকাতার ‘ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল’-এর প্রাণকেন্দ্র। ফলে নতুন এই পুজো নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, অন্য সম্প্রদায়ের কোনো উৎসবের সঙ্গে সংঘাত তৈরির উদ্দেশ্য তাঁদের নেই।
নবীন মিশ্র জানান, “পার্ক স্ট্রিটে বড়দিনের আনন্দময় পরিবেশ যেমন বজায় থাকে, তেমনই থাকা উচিত। আমাদের উদ্দেশ্য শুধুই সেই স্থানে বাংলার নিজস্ব সনাতনী সংস্কৃতিকে স্থান দেওয়া।”
কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে ঐতিহ্যবাহী অ্যালেন পার্কের এই নতুন সংযোজন নিয়ে এখন থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে।


