কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ভরা বর্ষায় তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর বিধ্বংসী হড়পা বানের (Flash Flood) তাণ্ডবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৩০০-র বেশি পর্যটক। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার জল গড়িয়েছে কূটনীতিতেও, যেখানে আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার অভিযোগে চিনের দিকে আঙুল তুলেছেন নেপালের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
আরও পড়ুনঃ মহাপ্রলয় নেপালে, তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান
উদ্ধারকার্য ও জরুরি হেল্পলাইন সেবা
-
জরুরি টোল ফ্রি নম্বর: পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আটকে পড়া ভারতীয়দের সহায়তায় কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস ও বিদেশমন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে:
-
+৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭
-
+৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০
-
-
উদ্ধারে ভারতীয় বায়ুসেনা: উদ্ধারকাজে নেপাল প্রশাসনকে সাহায্য করতে ভারতীয় বায়ুসেনাকে ‘স্ট্যান্ড বাই’ বা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৫ জন আক্রান্তকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা নরেন্দ্র মোদীর
বিপর্যয়ের খবর পেয়েই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে ফোন করে সমবেদনা ও পূর্ণ সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে মোদী জানান:
“প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে নেপালের বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছি। এই কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের ভাই-বোনদের পাশে রয়েছে। ভারত সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা করতে প্রস্তুত।”
আরও পড়ুনঃ আবারও দুঃসংবাদ! আগামী মাস থেকেই পকেটে টান; দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা
চিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ
এই বিপর্যয়ের পেছনে চিনের গাফিলতির কথা তুলে ধরে সরব হয়েছেন নেপালি সাংবাদিক পরশুরাম কাপহালে। তাঁর অভিযোগ, তিব্বত থেকে উৎপন্ন ভোতে কোশি নদীতে হড়পা বানের বিষয়ে চিনের তরফ থেকে কোনও আগাম সতর্কবার্তা (Early Warning) দেওয়া হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, নেপাল সর্বদা উত্তর-প্রতিবেশী চিনের নিরাপত্তাজনিত বিষয়কে প্রাধান্য দিলেও, এত বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যাপারে চিন আগাম সতর্কতা না দেওয়ায় নেপালে প্রচুর প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।
বর্তমানে ভারত ও নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলি যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


